—ছবি সংগৃহিত
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেড এক ধাপ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বিদ্যমান পদ বিলুপ্তি করে নতুন পদবির জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার গঠিত পরামর্শক কমিটি এই সুপারিশ করেছে।
এই কমিটি শিক্ষকদের পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধির কথাও বলেছে।
আরো পড়ুন———
> শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
> শিক্ষকদের বেতন গ্রেড বৃদ্ধির সুপারিশ, থাকছে পদোন্নতির সুযোগ
> কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার সুপারিশ
> পাঠদান নিয়ে শিক্ষকদের প্রতি নির্দেশনা
পরামর্শক কমিটি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শতাধিক সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শেখাতে শ্রেণির ভতরে ও বাইরে সহায়তার ব্যবস্থা রাখা, অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে প্যারা শিক্ষক নিয়োগ, মৌলিক দক্ষতা, জরিপের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোকে লাল (পিছিয়ে পড়া), হলুদ (মধ্যম) ও সবুজ (ভালো)—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। এই কমিটি প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ছাড়াও প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এবং কাঠামোগত উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় সুপারিশ করেছে।
আরো পড়ুন———
> শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
> এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা নিয়ে যা হতে যাচ্ছে
> অধ্যক্ষ-প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেবে এনটিআরসিএ, কমছে কমিটির ক্ষমতা
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদের নেতৃত্বাধীন প্রথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটি আজ সোমবার বিকেলে রাষ্টীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
সুপারিশ বাস্তবায়নের ব্যপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অদ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘পরামর্শক কমিটি যেসব সুপারিশ করেছে, তা মানার নৈতিক দায় আমাদের আছে। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তাদের কিছু সুপারিশ আমরা নিজেরাাই বাস্তবায়ন করতে পারব। কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নে অন্য মন্ত্রণালয়ের সহযোহিতা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করবো। আর কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত দরকার। বর্তমান সরকার শিক্ষকদের জীবনের মানোন্নয়ন ও সামাজিক মর্যাদার উন্নয়নে ইতিবাচক।
বেতন বৃদ্ধি ও পদ পরিবর্তন
বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌনে চার লাখের মতো শিক্ষক আছেন। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১তম। আর সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১৩তম (গুরুর মূল বেতন ১১ হাজার টাকা, এর সঙ্গে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যোগ হয়)। পরামর্শক কমিটি সহকারী শিক্ষক পদ বিলুপ্ত করে শুরুর পদ শিক্ষক করার সুপারিশ করয়েছে। এ এক্ষেত্রে শিক্ষক হিসেবে শুরুতে বেতন গ্রেড হবে ১২তম। শুরুর মূল বেতন হবে ১১ হাজার ৩০০ টাকা, এর সঙ্গে অন্যান্য সুযোগ সুবিধা যোগ হবে। এরপর দুই বছর পর চাকরি স্থায়ীকরণ ও আরো দুই বছর পর তারা সিনিয়র শিক্ষক হবেন। তখন তাদের বেতন গ্রেড হবে ১১তম।