—ছবি সংগৃহিত
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। ইরান যদি দ্রুত কোনো সম্মানজনক চুক্তিতে না আসে, তবে দেশটিতে যেকোনো মুহূর্তে পুরোদমে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী এখন কেবল প্রস্তুতই নয়, বরং আক্রমণের জন্য ‘মুখিয়ে’ আছে।
রসদ মজুত সম্পন্ন
সম্প্রতি সিএনবিসি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতির এই সময়কালকে হাতছাড়া করেনি ওয়াশিংটন। বরং একে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধের প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও অত্যাধুনিক সমর সরঞ্জাম মজুত করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, "আমরা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের ভাণ্ডারে পর্যাপ্ত রসদ রয়েছে। নির্দেশ পাওয়ামাত্রই মার্কিন বাহিনী অপারেশন শুরু করবে।"
‘পুরোদমে প্রস্তুত’ মার্কিন বাহিনী
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কণ্ঠে যুদ্ধের জোরালো প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক শক্তিকে পুনর্গঠিত করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন:
"আমাদের সামরিক বাহিনী এখন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তারা কেবল আদেশের অপেক্ষা করছে। আমরা এই সময়টাকে রসদ মজুতের কাজে সফলভাবে ব্যবহার করেছি।"
পাল্টাপাল্টি প্রস্তুতি
ট্রাম্প কেবল নিজের শক্তির কথা বলেননি, তিনি ইরানের প্রস্তুতির বিষয়টিও এড়িয়ে যাননি। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানও হয়তো এই বিরতিতে নিজেদের সামর্থ্য বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। তবে মার্কিন শক্তির সামনে তারা কতটা টিকতে পারবে, তা নিয়ে ট্রাম্প বেশ আত্মবিশ্বাসী।
সংঘাত নাকি কূটনীতি?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) প্রয়োগের একটি অংশ। যুদ্ধের হুমকি দিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় করা এবং নিজেদের শর্তানুযায়ী চুক্তি করতে বাধ্য করাই ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। তবে কূটনীতি ব্যর্থ হলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে তেহরানের দিকে। ট্রাম্পের এই সরাসরি যুদ্ধের হুমকির জবাবে ইরান কোনো কূটনৈতিক পথে হাঁটে নাকি পাল্টা সামরিক হুঙ্কার দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।