—ছবি সংগৃহিত
বিশ্বের জ্বালানি বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ভেনেজুয়েলার তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নিতে বড় ধরনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলনের সুযোগ পেলে বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের ৫৫ শতাংশই থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।
তেলের বাজারে বিশাল পরিবর্তনের লক্ষ্য
গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এক্সনমোবিল, শেভরন এবং কনোকোফিলিপসের মতো শীর্ষস্থানীয় তেল কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানান।
বৈঠকে তিনি বলেন, "আমরা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছি। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে তেলের উৎপাদন এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি।"
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল খাতে প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তত ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। তার মতে, ২০০০-এর দশকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের আমলে মার্কিন সম্পদের 'অন্যায্য' জাতীয়করণই ভেনেজুয়েলার বর্তমান অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মূল কারণ।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মাদুরো ইস্যু
ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত। গত সপ্তাহে মাদক পাচারের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে কারাকাস থেকে তুলে নিউইয়র্কে নিয়ে আসে মার্কিন বাহিনী। গত সোমবার মার্কিন আদালতে হাজির করা হলে মাদুরো তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মাদুরোর অনুপস্থিতিতে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন দেলসি রদ্রিগেজ। তিনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রসহ সব পক্ষের সঙ্গে জ্বালানি প্রকল্পে কাজ করতে আগ্রহী। তবে ভেনেজুয়েলার অনেক সরকারি কর্মকর্তা ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে দেশের সম্পদ ‘চুরি’ করার ফন্দি এবং সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বড় কোম্পানিগুলোর সতর্কতা
বিনিয়োগের ঘোষণা এলেও মার্কিন তেল জায়ান্টরা এখনই পূর্ণ নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। এক্সনমোবিলের সিইও ড্যারেন উডস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের বিদ্যমান নিয়মকানুন ও কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত সেখানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়।