—ছবি সংগৃহিত
বাংলাদেশে হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাগুলোকে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক শত্রুতা হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভারত।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এ ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বরং উৎসাহিত করা হচ্ছে।
সাম্প্রদায়িক হামলার পুনরাবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগ
ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, "আমরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ন্যাক্কারজনক আক্রমণের পুনরাবৃত্তি হতে দেখছি। চরমপন্থীরা ক্রমাগত তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব সাম্প্রদায়িক ঘটনা দ্রুত এবং অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করা এখন সময়ের দাবি।
ঘটনার ‘ভিন্ন ব্যাখ্যা’ নিয়ে আপত্তি
ভারত মনে করে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব হামলার পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিহিংসা বা রাজনৈতিক মতভিন্নতাকে কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। জয়সোয়াল বলেন, "এই সমস্যাজনক প্রবণতার ফলে অপরাধীরা দায়মুক্তি পাচ্ছে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।" এর ফলে পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান (JF-17 Thunder) কেনার আলোচনা নিয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে জয়সোয়াল বলেন, "আমরা আমাদের নিরাপত্তা স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ের ওপর নিবিড় নজর রাখছি।"
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে আলোচনার কথা জানানো হলেও বাংলাদেশের আইএসপিআর জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো পর্যালোচনা পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মত
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আজকের এই বক্তব্য ঢাকা ও দিল্লির বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রতিফলন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ইস্যু এবং পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ঘনিষ্ঠতাকে ভারত অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখছে।