—ছবি সংগৃহিত
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পূর্ণাঙ্গ ‘চেয়ারম্যান’ নির্বাচিত হয়েছেন তারেক রহমান।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁকে এই পদে আসীন করার সিদ্ধান্ত হয়।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
বৈঠক শেষে রাত গভীর হলে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “দলের গঠনতন্ত্রের সুনির্দিষ্ট বিধান অনুসরণ করে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিত
চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পরপরই তারেক রহমানের পূর্বনির্ধারিত উত্তরবঙ্গ সফর আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে সফরের নতুন সময়সূচি দেশবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের উপস্থিতি
নতুন নির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জরুরি বৈঠকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটির’ প্রায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন:
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
২০১৮ সাল থেকে তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত ৩০ ডিসেম্বর দলের দীর্ঘদিনের কান্ডারি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর পদটি শূন্য হয়।
আজকের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘ সাত বছর পর বিএনপি একজন পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান পেল। দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তারেক রহমানের এই পদোন্নতি তৃণমূল বিএনপিতে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করবে বলে মনে করছেন দলের নেতা-কর্মীরা।