—ছবি সংগৃহিত
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম, মিথ্যা মামলা এবং সবশেষ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে বিতর্কিত ভূমিকা রাখা শ্রীমঙ্গলের এক নেতাকে ঘিরে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের তীর উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও ৫নং কালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মতলিবের বিরুদ্ধে।
ভিডিও ফুটেজ থাকলেও অধরা চেয়ারম্যান
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমুহনী এলাকায় আন্দোলন দমনে নিজের অনুসারীদের নিয়ে প্রস্তুতিকালে মতলিবের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ফুটেজে সরাসরি অংশ নিতে দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ প্রভাবশালী নেতা আত্মগোপনে থাকলেও তিনি কীভাবে প্রকাশ্যে দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে শক্তির উৎস
অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ নেতা হওয়া সত্ত্বেও মতলিব বর্তমানে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চলা কিছু বিতর্কিত ও চাঁদাবাজ প্রকৃতির ব্যক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছেন। এই চক্রটি সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে এবং প্রকাশ্যে প্রশাসনিক মহলে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
পুরোনো ষড়যন্ত্রের শিকার সাধারণ মানুষ
২০১৩ সালের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনে স্থানীয়রা জানান, ওই সময় কালাপুর এলাকায় বিএনপিকে সমর্থনের অভিযোগে নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে মিথ্যা নাশকতা মামলায় জড়ানোর অন্যতম হোতা ছিলেন এই মতলিব।
ওই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে তিনি আদালতে সাক্ষ্য দেন, যার ফলে জমশেদ মিয়া, সালামত মিয়া এবং তাজ উদ্দীন মিয়া নামের তিন ব্যক্তি দীর্ঘ সাত মাস কারাবাস ভোগ করেন। এছাড়া অসংখ্য মানুষ ঘরছাড়া হয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন।
বর্তমান হয়রানি ও দুর্নীতির পাহাড়
বর্তমানেও তিনি পূর্বের কৌশলে প্রভাব বিস্তার করে মানুষকে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ১৬ বছর বয়সী জুবেদ আহমেদ নামের এক নাবালক কিশোরের বিরুদ্ধে ‘কিশোর গ্যাং’ সংশ্লিষ্ট মামলা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন খাতের সরকারি বরাদ্দ তছরুপের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্নার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত অবগত নই। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
দ্রুত প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে এই অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও কালাপুরের সাধারণ জনগণ।