—ছবি সংগৃহিত
ভেনেজুয়েলার ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও জোরালো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ধারাবাহিকতায় এবার ক্যারিবীয় সাগর থেকে আরও একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) মার্কিন সেনাবাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড এক বিবৃতিতে ‘ওলিনা’ নামক একটি ট্যাঙ্কার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পঞ্চম ট্যাঙ্কার জব্দ
মার্কিন বাহিনীর দাবি, কোনো ধরনের অঘটন ছাড়াই তারা জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে। যদিও আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি, তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল পরিবহনের দায়ে ‘ওলিনা’ আগে থেকেই ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল। এ নিয়ে ভেনেজুয়েলা সংকটের মধ্যে মোট পাঁচটি তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র।
এর মাত্র দুই দিন আগে উত্তর আটলান্টিক থেকে ‘মেরিনেরা’সহ আরও দুটি ট্যাঙ্কার আটক করা হয়েছিল। মার্কিন বিচার বিভাগ বর্তমানে এসব জাহাজের ক্রুদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।
মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলা ও মার্কিন নীতি
গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিন বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার পরও ওয়াশিংটন তাদের কঠোর অবরোধ নীতি থেকে সরে আসেনি। বরং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডার ও শাসনব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এখন আমেরিকার হাতেই থাকবে। মাদুরোকে নিউইয়র্কের কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাশিয়ার তীব্র প্রতিবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুতা’র শামিল বলে অভিহিত করেছে রাশিয়া। রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উন্মুক্ত সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের যে স্বাধীনতা ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইনে নিশ্চিত করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তা লঙ্ঘন করছে। মস্কোর মতে, কোনো দেশই অন্য দেশে নিবন্ধিত জাহাজের ওপর এভাবে শক্তি প্রয়োগের অধিকার রাখে না।
ভূ-রাজনীতিতে প্রভাব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি তেলের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য। একইসঙ্গে চীন ও রাশিয়াকে এই অঞ্চল থেকে দূরে রাখতে কৌশলগত চাপ প্রয়োগ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই পরিস্থিতি কেবল লাতিন আমেরিকায় নয়, বরং আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা।