—ছবি সংগৃহিত
দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানে দফায় দফায় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে পাকিস্তানে ৫.৮ মাত্রার শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি ভারতের গুজরাটে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৯ বার ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।
বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানে শক্তিশালী কম্পন
পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ (পিএমডি) জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে অনুভূত হওয়া ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তাজিকিস্তান-শিনজিয়াং সীমান্তবর্তী অঞ্চল। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫৯ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনটি সংঘটিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এর প্রভাব পাকিস্তান ছাড়াও চীন, আফগানিস্তান ও তাজিকিস্তানে অনুভূত হয়েছে। রাজধানী ইসলামাবাদ ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় প্রবল কম্পনের ফলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
গুজরাটে ১২ ঘণ্টায় ৯ বার ভূমিকম্প
অন্যদিকে, ভারতের গুজরাট রাজ্যের রাজকোট জেলায় এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৯ বার কেঁপে উঠেছে এই অঞ্চল। যদিও রিখটার স্কেলে এগুলোর মাত্রা কম ছিল, তবুও ঘন ঘন কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা কচ্ছ অঞ্চলের বাইরে রাজকোটে এমন ধারাবাহিক কম্পনকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
ভৌগোলিক ঝুঁকি ও সতর্কতা
ভৌগোলিক কারণে পাকিস্তান তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি দীর্ঘকাল ধরেই ভূমিকম্পপ্রবণ। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরেও দেশটিতে বড় ধরনের কম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় দেশের আবহাওয়া দপ্তর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে এবং পরবর্তী সম্ভাব্য কম্পন মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলজুড়ে এই ভূকম্পন নতুন করে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
সূত্র: ডন এবং ইন্ডিয়া টুডে।