—ছবি সংগৃহিত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ডলারের ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃ
হস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
‘অস্বাভাবিক নয়, তবে কষ্টকর’
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত কেবল বাংলাদেশের একক বিষয় নয় বরং ৩৮টি দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, "আমেরিকা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মূলত অভিবাসন সমস্যা আছে এমন দেশগুলোর ওপর। আপনারা আমেরিকানদের কৌশল দেখেছেন, যারা সেখানের সোশ্যাল সিস্টেম থেকে অর্থ গ্রহণ করে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেশি।" তিনি আরও যোগ করেন, এমন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বাংলাদেশের থাকাটা অস্বাভাবিক নয়, তবে এটি আমাদের জন্য অবশ্যই দুঃখজনক ও কষ্টকর।
পূর্ববর্তী সরকারের দায় দেখছেন উপদেষ্টা
এই পরিস্থিতির জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করতে নারাজ তৌহিদ হোসেন। তিনি যুক্তি দেন যে, এই সমস্যা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ফল। তিনি বলেন, "যদি সবাই গত এক বছরে যেত, তবে আমাদের দায় থাকত। এই পদ্ধতি চলছে দীর্ঘদিন ধরে। পলিসিগত দায় যদি থাকে, তবে তা পূর্ববর্তী সব সরকারের। আমরা এখনও এই প্রবণতা পরিবর্তন করতে পারিনি।"
অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
সরকার শুরু থেকেই অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, "একমাত্র সমাধান হবে যদি আমরা অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করতে পারি। ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানি বা পর্যটন ভিসা নিয়ে অন্য দেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা আমরা যতক্ষণ থামাতে না পারব, ততক্ষণ এ ধরণের সমস্যার সমাধান হবে না।"
ভিসা বন্ড কী ও প্রেক্ষাপট
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দিতে হতে পারে। গত মঙ্গলবার নতুন করে বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশের নাম এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা দেশটিতে থেকে যান (Overstay), তাদের নিরুৎসাহিত করতেই এই বন্ড ব্যবস্থা।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ
এই বন্ড থেকে অব্যাহতি পেতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বিষয়টি যেহেতু নতুন, তাই সরকার সাধারণ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আলোচনার চেষ্টা করবে যাতে বাংলাদেশকে এই তালিকা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।