—ছবি সংগৃহিত
ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তৈরি হওয়া বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শুরু বাংলাদেশ থেকে হয়নি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্পর্কের টানাপড়েন ও অর্থনৈতিক প্রভাব
ভারত যখন মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় এবং তার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ হয়, তখন দুই দেশের সম্পর্কে এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাংবাদিকরা। জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “এ ঘটনায় সরকারের অর্থনৈতিক বা সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। আজকের বৈঠকে খেলাধুলা নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সবসময় যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়। এই ঘটনার কারণে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।” তবে কূটনৈতিক বা পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে তিনি এ নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া ‘দুর্ভাগ্যজনক’
মুস্তাফিজের যোগ্যতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “মুস্তাফিজুর রহমান একজন বিশ্বপরিচিত এবং অত্যন্ত দক্ষ খেলোয়াড়। তাকে দয়া করে আইপিএল-এ নেওয়া হয়নি, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতেই তিনি দলে ছিলেন। এরপর হুট করে তাকে বাদ দেওয়া দুর্ভাগ্যজনক এবং পরবর্তী ঘটনাগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত।”
তিনি মনে করেন, খেলাধুলা একটি দেশের জন্য ‘ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে কাজ করে। ফলে এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ ও ভারত—কোনো দেশের জন্যই ভালো হয়নি।
সমাধান ও প্রত্যাশা
খেলাধুলার সঙ্গে মানুষের আবেগ জড়িত উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে বলেন, “হিটলারের সময়েও অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মানুষের আবেগ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলাদা বিষয়। আমরা চাই না রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কোনো ক্ষেত্রেই সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হোক। আশা করি দুই পক্ষই সহনশীল হয়ে বিষয়টি সমাধান করবে।”
এনবিআর সংস্কার প্রসঙ্গ
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর-কে দুই ভাগে বিভক্ত করার বিষয়েও আপডেট দেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি জানান, প্রস্তুতির কারণে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি করা সম্ভব না হলেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এনবিআর পুনর্গঠনের কাজ শেষ হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেই এই সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।