উল্লাপাড়ায় শ্মশানে মরদেহ সৎকারে বাধা ইউএনও’র হস্তক্ষেপে দাহ সম্পন্ন
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভার ঝিকিড়া মহল্লার হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নারীর মৃতদেহ দাহ করতে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট পরিবার। ঘোষগাঁতী শ্মশানের দায়িত্বে থাকা সাবেক পৌর কাউন্সিলর বাবলু কুমার ভৌমিক শ্মশানের প্রবেশ দ্বারে তালার চাবি দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লাপাড়ার ঘোষগাঁতী মহা শ্মশানের নাম নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে ঝিকিড়া মহল্লা ও ঘোষগাঁতী মহল্লার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গোলযোগ চলে আসছে।
ঘোষগাঁতী মহল্লার সন্তোষ বণিক অভিযোগ করেন, তার মা মিনা বণিক রোববার রাতে মারা গেছেন। সোমবার তার মরদেহ ঘোষগাঁতী শ্মশানে দাহ করতে নিয়ে গিয়ে উক্ত বাবলু কুমার ভৌমিক নিকট রক্ষিত শ্মশানের চাবি চাওয়া হয়। বাবলু কুমার ভৌমিক বলেন, এটি ঘোষগাঁতী মহা শ্মশান, এটি তো উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নয়।
যেখানে উল্লাপাড়া মহা শ্মশান রয়েছে, সেখানে গিয়ে মরদেহ দাহ করান। এখানে দাহ করতে দেওয়া হবে না মর্মে জানান এবং চাবি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি তার মায়ের মরদেহ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে রাখেন। এ সময় তার ক্ষুব্ধ পরিবার ও স্বজনরা মরদেহ দাহ করার ব্যবস্থার দাবি জানান। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ তাদের অভিযোগ শুনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে দুপুরে মরদেহ দাহ করার ব্যবস্থা নেন।
এ ব্যাপারে বাবলু কুমার ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ঘোষগাঁতী শ্মশানের নাম নিয়ে অনেক দিন ধরে ঝিকিড়া মহল্লার লোকজনের সঙ্গে তাদের গোলযোগ চলছে। ঝিকিড়া মহল্লার হিন্দু সম্প্রদায় ওই শ্মশানটির নাম উল্লাপাড়া মহা শ্মশান করার প্রস্তাব করে আসছে।
কিন্তু ঘোষগাঁতী মহল্লার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন যেহেতু তাদের ছেড়ে দেওয়া জায়গায় কমপক্ষে ২শ বছর আগে শ্মশানটি প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সে জন্য এটি ঘোষগাঁতী মহা শ্মশান নামে পরিচিতির দাবির পক্ষে অনড় রয়েছে তারা। এই কারণে সাময়িকভাবে তিনি শ্মশানের চাবি হস্তান্তর থেকে বিরত থাকেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে তিনি শ্মশানের তালা খুলে দেন এবং মরদেহ দাহর ব্যবস্থা করেন।
উপজেলা পুজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কুমার ঘোষ জানান, ঘোষগাঁতী ও ঝিকিড়া মহল্লার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে ঘোষগাঁতী শ্মশানের নাম নিয়ে কয়েক বছর ধরে দ্ব›দ্ব চলে আসছে। তবে কারও মরদেহ সৎকারে বাধা দেওয়া কখনও উচিৎ নয়। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মিনা বণিকের মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ জানান, ঘোষগাঁতী মহা শ্মশানের নাম নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে ওই শ্মশানে মরদেহ সৎকারে বাধা দেওয়া কখনও ঠিক হয়নি। তিনি মিনা বণিকের মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে এ বিষয়টি সমাধান করার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে ব্যবস্থা নেবারও নির্দেশ দিয়েছেন।