দুলুর বার্ষিক আয় ৭৩ লাখ, স্ত্রীর ২ কোটি ৬৮ লাখ—হলফনামায় প্রকাশ
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বার্ষিক আয় ৭৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। তবে গৃহিণী পরিচয় থাকা সত্ত্বেও তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় ২ কোটি ৬৮ লাখ ৭৪ হাজার ৯৭৩ টাকা—যা স্বামীর আয়ের প্রায় চার গুণ।
নির্বাচনে অংশ নিতে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। হলফনামা অনুযায়ী, নাটোর জজকোর্টের আইনজীবী হলেও দুলু আইন পেশা থেকে কোনো আয়ের কথা উল্লেখ করেননি। তার আয়ের উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে—কৃষি খাত থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে ৭০ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮ টাকা।
অন্যদিকে, তার স্ত্রীর আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ রয়েছে—শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৭৪ হাজার ৯৭৩ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৩০ লাখ টাকা। আয়কর সনদেও স্বামী-স্ত্রীর এই আয়ের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, দুলুর হাতে নগদ রয়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৫ হাজার ৮০৪ টাকা, স্ত্রীর হাতে নগদ ১৪ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪২ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দুলুর জমা ৪৭ লাখ ৮৯ হাজার ৮৭৬ টাকা এবং স্ত্রীর নামে জমা ৪৭ লাখ ১৮ হাজার ৬৪৬ টাকা। দুলুর শেয়ারের মূল্য ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে দুলুর ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর ৭ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪ টাকা রয়েছে।
সব মিলিয়ে দুলুর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৭ কোটি ৬২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৪১ টাকা এবং তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৮ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৮৭২ টাকা। দুলুর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে দুটি লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, গাড়ি, স্বর্ণালংকার, আসবাব ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে।
স্থাবর সম্পদের হিসাবে দুলুর নামে রয়েছে ৪০ বিঘা জমি (এর মধ্যে ২০ বিঘার একটি পুকুর), নাটোরে ২ হাজার বর্গফুটের তিনতলা বাড়ি এবং ঢাকার বনানীতে ৫ কাঠার একটি প্লট। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ঢাকার গুলশানে একটি ফ্ল্যাট।
এ ছাড়া হলফনামায় দুলুর বিরুদ্ধে মোট ৮৩টি মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে চলমান ৪৪টি, বিচারাধীন ১৭টি (একটি আয়কর মামলা), উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত ২৭টি এবং নিষ্পত্তিকৃত ৩৯টি মামলা রয়েছে। নিষ্পত্তিকৃত মামলাগুলোর মধ্যে ৩০টিতে তিনি খালাস পেয়েছেন এবং ৯টিতে অভিযোগপত্র থেকে তার নাম বাদ পড়েছে।