—ছবি সংগৃহিত
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্যপুস্তকে ব্যাপক পরিবর্তন ও পরিমার্জন এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন সংস্করণে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণসহ বেশ কিছু বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর পরিবর্তে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পাঠ্যবইয়ের অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করার পর এই পরিবর্তনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
৭ মার্চের ভাষণ ও বঙ্গবন্ধু বিশেষণ বর্জন
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। এনসিটিবি সূত্র জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার ভিত্তিতে এই সংশোধন করা হয়েছে।
সাহিত্য কণিকা: অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বইয়ে এতদিন ৭ মার্চের ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ শিরোনামে গদ্যাংশে অন্তর্ভুক্ত ছিল। নতুন বইয়ে এই পাঠটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে বইটিতে গদ্যের সংখ্যা ১২টি থেকে কমে ১১টিতে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষণ বর্জন: ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বইয়ের একাধিক সংস্করণে শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ব্যবহৃত ‘বঙ্গবন্ধু’ বিশেষণটি অধিকাংশ জায়গা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বইয়ের কিছু জায়গায় এখনও এটি রয়ে গেছে।
উচ্চ মাধ্যমিক ইংরেজি: উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ইংরেজি পাঠ্যবই থেকেও শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা ‘লেসন’টি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্তর্ভুক্তি
পুরানো কিছু পাঠ বাদ দেওয়ার পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে পাঠ্যবইয়ের পাতায় তুলে আনা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকের ইংরেজি বইসহ ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বিভিন্ন পাঠ্যবইয়ে জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগ ও প্রেক্ষাপট নিয়ে নতুন অধ্যায় ও পাঠ যুক্ত করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এই আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে এনসিটিবি জানিয়েছে।
সংশোধনের প্রেক্ষাপট ও প্রক্রিয়া
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিব সংশ্লিষ্ট ‘অতিরঞ্জিত’ ও ‘একপাক্ষিক’ তথ্যগুলো বাদ দেওয়ার জন্য মাউশি থেকে লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেই চিঠির আলোকে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়, যারা পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায় পর্যালোচনা করে এই পরিবর্তনগুলো আনেন। বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস ও সাহিত্য বইগুলোতে এই পরিবর্তনের ছাপ সবচেয়ে বেশি।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া
পাঠ্যপুস্তকের এই আমূল পরিবর্তন নিয়ে এরই মধ্যে শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইতিহাসকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং বস্তুনিষ্ঠ করতে এই পরিমার্জন জরুরি ছিল। অন্যদিকে, একটি পক্ষ ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়ার সমালোচনা করছেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, "আমরা চেষ্টা করেছি পাঠ্যবইকে বর্তমান সময়ের উপযোগী এবং নিরপেক্ষ করতে। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশ গড়ার নতুন কারিগরদের বীরত্বগাথা পৌঁছে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য।"