—ছবি সংগৃহিত
আসন্ন ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া আইপিএলের মেগা আসর থেকে বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)।
তবে এই সিদ্ধান্ত ফ্র্যাঞ্চাইজির নিজস্ব নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই-এর নির্দেশে ‘রাজনৈতিক ও ধর্মীয়’ কারণ দেখিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নিলামে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বিক্রি হওয়া এই বাঁহাতি পেসার তাঁর পারিশ্রমিক পাবেন কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুরো আসর থেকে কেন বাদ?
এবারের আইপিএলের পুরো সময়ের জন্যই মোস্তাফিজকে অনাপত্তিপত্র (NOC) দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পরিকল্পনা ছিল শুধু এপ্রিলের মাঝামাঝি এক সপ্তাহের জন্য তিনি দেশে ফিরবেন। কিন্তু ভারতে উগ্রপন্থী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের ক্রমাগত প্রতিবাদের মুখে বিসিসিআই কেকেআর-কে নির্দেশ দেয় মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার জন্য। এই ঘটনাকে বিজেপি নেতারা ‘হিন্দুদের জয়’ হিসেবে আখ্যা দিলেও ভারতের সাবেক মন্ত্রী শশী থারুরসহ অনেক বিশ্লেষক একে খেলোয়াড়ি চেতনার পরিপন্থী বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
পারিশ্রমিক নিয়ে আইপিএলের নিয়ম কী বলে?
আইপিএলে সাধারণত ‘নো প্লে, নো পে’ (খেলা না হলে বেতন নয়) নিয়ম কার্যকর থাকে। তবে এই নিয়মটি তখনই খাটে যখন কোনো খেলোয়াড় চোটের কারণে বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে নিজে সরে দাঁড়ান। মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন:
খেলোয়াড় প্রস্তুত: মোস্তাফিজ খেলার জন্য সম্পূর্ণ ফিট এবং প্রস্তুত ছিলেন।
বি বোর্ডের নির্দেশ: খেলোয়াড় নিজে সরেননি, বরং বোর্ড এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে।
চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা: নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো খেলোয়াড় ম্যাচ ফিক্সিং, ডোপিং বা শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে নিষিদ্ধ না হন, তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে খেলিয়ে বা বেঞ্চে বসিয়ে রেখে পারিশ্রমিক দিতে বাধ্য থাকে।
৯ কোটি ২০ লাখ রুপির ভবিষ্যৎ কী?
আইপিএলের ১৯ বছরের ইতিহাসে এমন রাজনৈতিক কারণে খেলোয়াড় বাদ দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। ফলে মোস্তাফিজের পারিশ্রমিক প্রাপ্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে: ১. চুক্তি সই: কেকেআর-এর সাথে মোস্তাফিজের আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়েছিল কি না, তা একটি বড় ফ্যাক্টর। সাধারণত দলে যোগ দেওয়ার পর এই সই হয়। যদি সই হয়ে থাকে, তবে কেকেআর টাকা দিতে বাধ্য। ২. বাজেট ও বদলি: বিসিসিআই কেকেআর-কে বদলি খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। আইপিএলে প্রতিটি দলের খরচ করার একটি নির্দিষ্ট সীমা (স্যালারি ক্যাপ) থাকে। কেকেআর যদি নতুন খেলোয়াড় নেয়, তবে মোস্তাফিজের টাকা পরিশোধ করা তাদের জন্য আর্থিক চাপের কারণ হতে পারে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিসিসিআই-এর হাতে
যেহেতু বিষয়টি নজিরবিহীন, তাই মোস্তাফিজের টাকা পাওয়ার বিষয়টি এখন পুরোপুরি বিসিসিআই-এর বিশেষ বিবেচনার ওপর নির্ভর করছে। বোর্ড যদি কেকেআর-কে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় বা বিশেষ তহবিল থেকে অর্থায়ন করে, তবেই মোস্তাফিজ তাঁর নিলামের দাম পেতে পারেন। অন্যথায়, ‘নো প্লে, নো পে’ অজুহাতে তাঁকে অর্থবঞ্চিত করার শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মুক্ত প্রভাত বিশ্লেষণ: মোস্তাফিজের মতো একজন বিশ্বমানের বোলারকে রাজনৈতিক কারণে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা ক্রিকেটের স্পিরিটকে ক্ষুণ্ন করেছে। এখন দেখার বিষয়, বিসিসিআই এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষা করে কোনো অনন্য সিদ্ধান্ত নেয় কি না।