—ছবি মুক্ত প্রভাত
ইটবাহী একটি অবৈধ ট্রলি চাপায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন ইজিবাইকের আরো ৫ যাত্রী। শনিবার সকাল ৭টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে পালিয়ে যান ট্রলির চালক।
এ ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের করেনি নিহতদের পরিবার। ঘাতক ট্রলিটি উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ‘আর আর ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটার কাজে নিয়োজিত ছিল। দুর্ঘটনার পর ইটভাটার পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে আপসের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
নিহতরা হলেন, ওই ইউনিয়নের রানীনগর মোল্লাপাড়া গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে হায়দার আলী (২৮) ও একই গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে আফসার আলী (৭০)। আহত ৫জনের মধ্যে একই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে সাব্বিরকে (১৭) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও আব্দুল হাকিমকে (৬৫) নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত এবং আহতরা সবাই ইজিবাইকের যাত্রী ছিলেন।
নিহত যুবক হায়দার আলীর মা বিলাপ করতে করতে বলেন, দিনমজুরি করে হায়দারের সংসার চলতো। সকালের গরমভাত খেয়ে মাটি কাটার কাজে যাচ্ছিলেন তার ছেলে। পথে হায়দারকে বহনকারী ইজিবাইককে ধাক্কায় দেয় ইটবাহি বেপরোয়া গতির ট্রলি। এতে ঘটনাস্থলেই তার সন্তান মারা যান।
তিনি বলেন, স্ত্রী ও ৮ মাস বয়সি একটি সন্তান রয়েছে হায়দারের। হায়দারই ছিলেন পরিবারের উপর্জনক্ষম ব্যক্তি। দুর্ঘটনায় ছেলেকে হারিয়ে তারা ঘোর অন্ধকারে পড়ে গেলেন। তিনি ট্রলি চালক এবং ইটভাটা মালিকের বিচার দাবি করেন।
হায়দারের স্ত্রী খাদিজা পারভীন (২২) বলেন, বছর দুয়েক আগেই তাদের বিয়ে হয়েছিল। ঘরে একটি পত্র সন্তানও এসছে। বেপরোয়া ট্রলির চাপায় তিনি স্বামী হারা হয়েছেন। পিতা হারা হয়েছে তার ৮ মাসের মাসুম ছেলে। অবুঝ সন্তান নিয়ে তিনি এখন কী করবেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, নাজিরপুরের রানীনগর মোল্লাপাড়া গ্রাম থেকে ইজিবাইক যোগে মাটি কাটার কাজে যাচ্ছেছিলেন ৮জন শ্রমিক। পথে ট্রলির সাথে ধাক্কা খায় ইজিবাইকটি। এতে ঘটনাস্থলেই ২ জন মারা যান। ট্রলিটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পরে। তবে চালক অক্ষত অবস্থায় পালিয়ে যান। স্থানীয় আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। পরে পুলিশ এসে লাশ দুটি উদ্ধার করে।
দুর্ঘটনা কবলিত ইজিবাইককের যাত্রী আহত শ্রমিক আব্দুল হালিম (৫০) বলেন, সকালে কুয়াশা ছিল। তাদের ইজি বাইকের বিপরিত দিক থেকে আসা ট্রলির লাইট ছিলনা। বেপরোয়া গতির ওই ট্রলিতে স্থানীয় রেজাউল হাসান রানার ভাটার ইট ছিল। কিছু বুঝে উঠার আগেই ট্রলিটি ইজিবাইকের ওপর উঠে যায়। এতে তারা ছিটকে দুরে পরলেও ঘটনাস্থলেই দুই শ্রমিক মারা যান।
মেসার্স আর আর বিক্সসের স্বত্ত্বাধীকারি রেজাউল হাসান রানা বলেন, অবৈধ হলেও তার ভাটায় অন্তত ৬টি ট্রলি ইট বহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে এদিন তার ভাটার ট্রলি ইজিবাইককে ধাক্কা দেয়নি।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুজ্জামান সরকার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের দাফনের পর রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আসার কথা রয়েছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, অবৈধ যানবাহন ট্রলির বিরুদ্ধে অভিযান দেবেন তারা।