—ছবি সংগৃহিত
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক অভাবনীয় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করেছে মার্কিন বাহিনী।
আজ শনিবার ভোরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই বড় ধরনের অভিযানের সফলতার কথা ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের এই দাবির পর পুরো দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
অপারেশন কারাকাস: যা জানালেন ট্রাম্প বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় একটি ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালিয়ে মাদুরো ও ফার্স্ট লেডিকে কব্জায় নিয়েছে। তবে তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বা এই অপারেশনের কৌশল কী ছিল, তা নিরাপত্তার খাতিরে প্রকাশ করেননি ট্রাম্প। উল্লেখ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ধরার জন্য ৫ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
ধ্বংসস্তূপে কারাকাস, অন্ধকারে শহর আজ শনিবার স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে কারাকাস কেঁপে ওঠে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লা কারলোটা সামরিক বিমানঘাঁটি এবং মাদুরোর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ২১ বছর বয়সী প্রত্যক্ষদর্শী কারমেন হিদালগো বলেন, "পুরো মাটি কেঁপে উঠেছিল, মনে হচ্ছিল কেয়ামত নেমে এসেছে। আমরা আকাশে শুধু যুদ্ধবিমানের গর্জন শুনছিলাম।" হামলার পর শহরের দক্ষিণ অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে।
অভিযোগের নেপথ্যে মাদক ও তেল ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ করে আসছিল। যদিও মাদুরো সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ এবং ‘তেল সম্পদ দখলের ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছে। সম্প্রতি ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার দুই ডজনের বেশি নৌযানে হামলার পর আজকের এই সরাসরি স্থল ও আকাশ অভিযান ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: কলম্বিয়ার উদ্বেগ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ তিনি লেখেন, "কারাকাসে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলা চালানো হচ্ছে। ভেনেজুয়েলা আজ আক্রান্ত।" তিনি অবিলম্বে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকারের নীরবতা ও অনিশ্চয়তা ট্রাম্প মাদুরোকে আটকের দাবি করলেও ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। রাজধানীর রাস্তায় এখন কেবল সামরিক বাহিনীর টহল এবং সাধারণ মানুষের হাহাকার। পেন্টাগনও এই অভিযানের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।