—ছবি সংগৃহিত
দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক উত্তেজনা ও হুমকির অবসান ঘটিয়ে ভেনেজুয়েলার ওপর সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে আজ শনিবার ভোরে রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।
ভয়াবহ সেই ভোর প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে গভীর ঘুমে মগ্ন কারাকাস বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে। শহরের প্রধান সামরিক ঘাঁটি ‘ফুয়ের্তে তিউনা’র কাছে অন্তত সাতটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি এবং নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়ার শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিস্ফোরণের পরপরই কারাকাস, মিরান্ডা এবং লা গুয়াইরা রাজ্যের বিশাল অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। আকাশে দেখা যায় আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী।
ট্রাম্পের নির্দেশ ও পেন্টাগনের নীরবতা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ (CBS News) হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই সুনির্দিষ্ট হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। গত সোমবারই ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, মাদুরোর জন্য ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়াটাই হবে "বুদ্ধিমানের কাজ"। তবে এই অভিযান নিয়ে পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। হোয়াইট হাউস থেকেও কোনো লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
ভেনেজুয়েলার পাল্টা অবস্থান হামলার পরপরই জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো একে ‘বর্বরোচিত মার্কিন আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আমাদের তেল ও খনিজ সম্পদ লুট করার লক্ষ্যেই এই হামলা চালিয়েছে, কিন্তু আমরা আত্মসমর্পণ করব না।" ভেনেজুয়েলা সরকার অবিলম্বে দেশজুড়ে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দক্ষিণ আমেরিকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কলম্বিয়া ও কিউবাসহ ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, কারাকাসের আকাশসীমায় এখনও ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের মহড়া চলছে এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।