—ছবি সংগৃহিত
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের বার্ষিক আয় ও সম্পদের হিসাব নিয়ে সাধারণ মহলে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, শিশির মনিরের তুলনায় তাঁর স্ত্রীর বার্ষিক আয় এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ কয়েক গুণ বেশি।
বার্ষিক আয়ের চিত্র
৪৪ বছর বয়সী শিশির মনির এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী:
শিশির মনিরের আয়: আইন পেশা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৪০৭ টাকা। ব্যাংক লভ্যাংশসহ অন্যান্য উৎস থেকে আসে আরও ৯৬ হাজার ৫৯৩ টাকা।
স্ত্রীর আয়: তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া সাদিয়া রায়হান একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। তাঁর মোট বার্ষিক আয় ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৫১৫ টাকা, যা স্বামীর আয়ের প্রায় দ্বিগুণ।
সম্পদ ও স্থাবর-অস্থাবর হিসাব
অস্থাবর সম্পদের দিক থেকেও শিশির মনিরের চেয়ে তাঁর স্ত্রী বেশ এগিয়ে রয়েছেন:
শিশির মনিরের সম্পদ: তাঁর নগদ ও ব্যাংক জমা মিলিয়ে অস্থাবর সম্পদ ৫১ লাখ ৪ হাজার ৩০৪ টাকা। এছাড়া তাঁর ১ কোটি ৮১ লাখ টাকার অকৃষি জমি রয়েছে।
স্ত্রীর সম্পদ: সুমাইয়া সাদিয়ার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৩ টাকা, যা শিশির মনিরের তুলনায় প্রায় চার গুণ। তবে তাঁর নামে কোনো স্থাবর সম্পদ (জমি বা বাড়ি) নেই।
মামলার বিবরণী
সাবেক এই ছাত্রশিবির নেতার বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে করা মামলা, যা বর্তমানে উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত আছে। অন্য মামলাটি এখনও তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস
নির্বাচন পরিচালনার জন্য শিশির মনির ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এই অর্থের ২০ লাখ টাকা তিনি তাঁর নিজস্ব আয় থেকে দেবেন এবং বাকি ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা দলীয় কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে সংগ্রহ করবেন।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নাছির চৌধুরী। এই আসনে লড়াই এখন মূলত আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞ বনাম মাঠের রাজনীতির পোড়খাওয়া নেতার মধ্যে।