—ছবি সংগৃহিত
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চেন্নাইয়ে আইআইটি মাদ্রাজে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন নির্বাচনের দিকে এগিয়ে চলেছে। আমরা তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এই অঞ্চলে সুপ্রতিবেশীসুলভ চেতনা আরও বৃদ্ধি পাবে।”
‘ভালো ও মন্দ’ প্রতিবেশী তত্ত্ব
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জয়শঙ্কর এক চাঞ্চল্যকর ‘ভালো ও মন্দ’ প্রতিবেশী তত্ত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারতের দুই ধরনের প্রতিবেশী আছে। অধিকাংশ প্রতিবেশীই বিশ্বাস করে যে, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তাদেরও উন্নতির পথ প্রশস্ত করবে। তবে নাম উল্লেখ না করে পাকিস্তানকে ‘মন্দ প্রতিবেশী’ হিসেবে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “যারা পানিবণ্টনের সুবিধা চাইবে আবার সীমান্তে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ভারত দ্বিধা করবে না।”
খালেদা জিয়ার জানাজায় ঢাকা সফর: একটি কূটনৈতিক মাইলফলক
গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে এক ঝটিকা সফরে ঢাকা আসেন জয়শঙ্কর। গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এটিই ছিল ভারতের কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির প্রথম বাংলাদেশ সফর।
সফরের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো ছিল:
শোকবার্তা প্রদান: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে শোকবার্তাটি তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন।
সাক্ষাৎ: বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। পরে সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বিনিময় করেন।
বার্তাপ্রেরণ: জয়শঙ্কর জানান, তিনি ঢাকা গিয়ে এই বার্তাই দিয়ে এসেছেন যে—ভারত তার প্রতিবেশীদের বিপদে পাশে থাকে, যেমনটা কোভিডের সময় বা শ্রীলঙ্কার আর্থিক সংকটে করেছে।
'প্রতিবেশী প্রথম' নীতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশীসুলভ আচরণ কেবল সংকটে সাহায্য করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিদ্যুত গ্রিড তৈরি, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোও এর অংশ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদল ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে তিনি আশাবাদী যে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হবে।
জয়শঙ্করের এই মন্তব্যকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের আগে ভারতের একটি কৌশলী অবস্থান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।