—ছবি সংগৃহিত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী শীর্ষ নেতাদের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। বার্ষিক আয়ের বিচারে দেশের প্রভাবশালী ও প্রবীণ রাজনীতিকদের পেছনে ফেলে দিয়েছেন নবীন ও তরুণ প্রজন্মের নেতারা।
গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এবং এনসিপির নাহিদ ইসলাম আয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও, মোট সম্পদের পরিমাণে এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আয়ের মুকুট নুরুল হক নুরের মাথায়
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আয়ের দিক থেকে সবাইকে চমকে দিয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। পেশায় ব্যবসায়ী নুরের বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা। এই আয়ের একটি বড় অংশ (১৫.৮৫ লাখ টাকা) আসে তাঁর ব্যবসা থেকে। মজার ব্যাপার হলো, তাঁর এই আয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সম্মিলিত আয়ের চেয়েও বেশি।
আয়ের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শিক্ষকতা ও পরামর্শক হিসেবে তাঁর বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা। গত বছরের তুলনায় তাঁর আয় চলতি বছর বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্পদের শীর্ষে তারেক রহমান
বার্ষিক আয়ে পিছিয়ে থাকলেও মোট সম্পদের পরিমাণে সবার ওপরে রয়েছেন তারেক রহমান। তাঁর ঘোষিত সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকা। তাঁর সম্পদের একটি বড় অংশ ব্যাংকে এফডিআর (৯০ লাখ টাকা) এবং কোম্পানির শেয়ার (৪৫ লাখ টাকা) হিসেবে রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ভবন ছাড়াও তাঁর নামে নগদ অর্থ রয়েছে প্রায় ৩১ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্পদের হিসাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। ডুপ্লেক্স বাড়ি ও কৃষিজমিসহ তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ টাকা। তবে বার্ষিক আয়ের হিসাবে তিনি সবার নিচে, মাত্র ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
নুরের পটুয়াখালী যাত্রা ও মামলার বোঝা
নুরুল হক নুর এবার পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীকে লড়ছেন। জোটগত কারণে বিএনপি সেখানে প্রার্থী না দিলেও সাবেক বিএনপি নেতা হাসান মামুনের মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে। নুরের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৬টি মামলা চলমান থাকলেও এর আগে ৮টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
১২ ফেব্রুয়ারির অগ্নিপরীক্ষা
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রুটিন অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়ের পর ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। হলফনামার এই ‘টাকা-আনা-পাই’ এর হিসাব সাধারণ ভোটারের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধই বলে দেবে।
উপসংহার: হলফনামার এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন ট্রেন্ডের জন্ম দিচ্ছে। প্রথাগত বড় দলের নেতাদের আয়ের উৎস যখন সীমিত দেখা যাচ্ছে, তখন তরুণ নেতারা শিক্ষকতা বা ব্যবসার মাধ্যমে নিজেদের সচ্ছলতা তুলে ধরছেন। এটি কি স্বচ্ছতার লক্ষণ নাকি রাজনৈতিক কৌশল—সেই বিতর্ক এখন চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।