—ছবি সংগৃহিত
বিএনপি চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ আজ সকাল সোয়া সাতটার দিকে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁকে মুঠোফোনে জানান, ‘আম্মা আর নেই।’
মৃত্যুকালে খালেদা জিয়ার পাশে তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
‘জাতি এক মহান অভিভাবককে হারাল’
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর সংগ্রাম ও জনগণের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার চলতি মাসেই তাঁকে রাষ্ট্রের ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। ড. ইউনূস বলেন, ‘আপসহীন নেতৃত্বের ফলে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতি বারবার মুক্তি পেয়েছে। দেশ ও জাতি তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
দীর্ঘ লড়াই ও শেষ বিদায়
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে উন্নত চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর তাঁর স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। তবে রোগব্যাধির জটিলতা ও দীর্ঘদিনের ধকলে তিনি শরীর ও মনে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন।
গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে শেষবারের মতো এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক মাসের বেশি সময় ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকলেও এবার আর চিকিৎসায় সাড়া দেননি ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত এই নেত্রী।
শোকাচ্ছন্ন রাজনৈতিক অঙ্গন
১৯৮১ সালে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি যুগের অবসান হলো। প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে আজ সকাল থেকেই হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন হাজারো নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ।