চিলমারীতে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে টানা ৫ দিনের তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে উপজেলার নিম্নআয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিক ও নদী-নির্ভর শ্রমজীবীরা। শীত বস্ত্র না থাকায় কাজে যেতে না পেরে পরিবার পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে জীবনযাপন করছে।
ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ছে। সারাদিন ঘন কুয়াশার কারনে সূর্যের দেখা মিলছে না। ছিন্নমুল মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে।
রাস্তাঘাটে চলাচলকারী যানবাহন কুয়াশার কারণে হেড লাইট জ্বালিয়ে ধীর গতিতে চলাচল করছে। ঘন কুয়াশার কারনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা ঘটছে। গতকাল রোববার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বিরাজ করছিল।
কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার রাজারহাটের কর্মকর্তা সুবল সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ শৈত্যপ্রবাহের ধারা আরো কয়েকদিন থাকতে পারে।’ বৈলমনদিয়ার খাতা এলাকার দিনমজুর মোখলেছুর রহমান বলেন, ঠান্ডার কারনে শীতের কাপড় না থাকায় কাজে যেতে পারছি না। কাজও নাই, রোজগারও নাই।
রিকশাচালক আব্দুস সাত্তার জানান, ‘শীতের কারণে যাত্রী কমে গেছে অনেক। সারা দিন ঘুরে যা পাই, তা দিয়া সংসার চলে না। তার ওপর ঠান্ডায় শরীর অবস হয়ে পরছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে আছে।
চিলমারী স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু রায়হায় জানান,‘এ পর্যন্ত শীত জনিত রোগে ৩৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এরমধ্যে ডায়রিয়া জনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি।’
ঠান্ডা জনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আমিনুল ইসলাম (৬০) বলেন, ঠান্ডায় শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। গোলজার হোসেন (৮০) বলেন, ঘরে গরম কাপড় না থাকায় শীতে কষ্ট ভুগতে ভুগতে প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। শীতের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও।
কুয়াশার কারণে সবজি ক্ষেত ও ইরি-বোরো বীজতলায় রোগের প্রকোপ বাড়ছে। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘদিন কুয়াশা ও শীত অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১৩’শ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরো সাড়ে ৪’শ কম্বল বিতরণের পর্যায়ে রয়েছে।’