—ছবি সংগৃহিত
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চিড় ধরা পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকা ও দিল্লিতে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের পাল্টাপাল্টি তলব করার এক বিরল ঘটনা ঘটেছে। গত ১০ দিনের ব্যবধানে এ নিয়ে মোট চারবার দুই দেশের কূটনীতিকদের তলব করে কড়া প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানানো হলো।
সকালেই ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব
দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে। সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ মিশনে হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
বিশেষ করে:
২০ ডিসেম্বর দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের সামনে উগ্র বিক্ষোভ।
২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারে ভাঙচুর ও নজিরবিহীন হামলা।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতীয় মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
বিকেলে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে পাল্টা তলব
ঢাকার এই পদক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা পরই বিকেলে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বি শ্যাম বাংলাদেশের হাইকমিশনারের কাছে অভিযোগ করেন যে, সম্প্রতি বেশ কিছু ইস্যুতে বাংলাদেশ ‘অযৌক্তিক ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে’ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
তবে ভারতের এই অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে খণ্ডন করেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার। তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলাদেশ কোনো কাল্পনিক বিষয়ে নয়, বরং মাঠপর্যায়ের কঠোর বাস্তবতার নিরিখে এবং জাতীয় স্বার্থে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।
সম্পর্কের ঐতিহাসিক সংকটে দুই দেশ
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘ ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনের অবসানের পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে শীতলতা শুরু হয়। তবে ১৬ মাসের এই টানাপোড়েনের মধ্যে একই দিনে সকালে এক দূতকে এবং বিকেলে অন্য দেশের দূতকে তলব করার ঘটনা এটাই প্রথম, যা দুই দেশের বর্তমান তলানি ঠেকে যাওয়া কূটনৈতিক সম্পর্কেরই বহিঃপ্রকাশ।