ধুনটে কৃষক হত্যাকান্ড রহস্যাবৃত সন্দেহের তীর ভাতিজার দিকে
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এক কৃষককে কান কেটে ও চোখ উপড়ে হত্যার পনের দিন পেরিয়ে গেলেও রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এমন পরিস্থিতিতে মামলার বাদি ও নিহতের স্বজনেরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। এছাড়া মামলা তদন্তে পুলিশের ভুমিকা নিয়েও বাদির মনে অসন্তোষ রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিশ্চিতপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে তার ভাতিজা প্রতিবেশী নাজিম উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ ঘটনার জেরে ১৯ নভেম্বর নাজিম উদ্দিন তার চাচা নুরুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দেয়।
এ অবস্থায় ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রতিবেশী রুবা খাতুন নামে এক গৃহবধূ পুলিশের ভয় দেখিয়ে কৌশলে নুরুল ইসলামকে বাড়ি থেকে বের করে নেয়। এরপর থেকে কৃষক নুরুল ইসলামকে খুজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নুরুল ইসলামের ছেলে শিক্ষক ইমদাদুল হক মিলন ধুনট থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেন।
এ অবস্থায় ২২ নভেম্বর সকাল ১০টায় বাড়ির অদুরে ধান ক্ষেতের মাঝে কান কাটা ও চোখ উপড়ানো নুরুল ইসলামের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ইমদাদুল হক মিলন বাদি হয়ে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় কোন আসামির নাম উল্লেখ না থাকলেও আরজিতে নাজিম উদ্দিন ও রুবা খাতুনের নাম উল্লেখ রয়েছে। শেরপুর থানা এলাকায় মৃতদেহ পড়ে থাকায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নাজিম উদ্দিন পলাতক থাকলেও রুবা খাতুন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদি শিক্ষক ইমদাদুল হক বলেন, হত্যাকান্ডের পনের দিন পার হলেও মামলা তদন্তে পুলিশের চরম অনিহা রয়েছে। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি। এছাড়া রুবা খাতুনের কাছ থেকে হত্যাকান্ডের কোন রহস্য উন্মোচন করতে পারছে না। এতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে চরম হতাশায় পড়েছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার বলেন, রুবা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদে যে তথ্য পাওয়া গেছে তা মামলা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চলছে। দ্রæত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।