উল্লাপাড়ায় প্রাথমিকে বার্ষিক পরীক্ষা নিচ্ছে অভিভাবকেরা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ধর্মঘটে থাকায় চলমান বার্ষিক পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে বাংলা পরীক্ষায় প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকগণ পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্ব পালন করেছেন। সহকারী শিক্ষকদের সরকার ঘোষিত ১১তম গ্রেড নিশ্চিত করতে এখন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি না করায় এরা ধর্মঘটে রয়েছেন।
আর এতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বার্ষিক পরীক্ষা দিতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন। আজ মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক পরীক্ষায় শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকগণের অনুরোধে অভিভাবকগণ পরীক্ষা কক্ষে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। অসময়ে সহকারী শিক্ষকরা ধর্মঘটে যাওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার উল্লাপাড়া পৌ সভার ঝিকিড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় পরীক্ষা কক্ষগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন অভিভাবকগণ। একটি কক্ষে প্রধান শিক্ষক এ টিএম আব্দুর রাজ্জাক নিজেই দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, সহকারী শিক্ষকরা আন্দোলনে থাকায় বার্ষিক পরীক্ষা অব্যাহত রাখতে অভিভাবকদের অনুরোধ করে তাদের দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করানো হচ্ছে। কক্ষ পর্যবেক্ষকের অভাবে তিনি নিজেও দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোন মূল্যে তিনি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কথা হয় পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্বে থাকা অভিভাবক প্রসান্ত কুমার পাল, নাসীর উদ্দিন, মোঃ ফজলুল হক, মারজিয়া সুলতানা ও মাহমুদা সুলতানার সঙ্গে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, সহকারী শিক্ষকরা বার্ষিক পরীক্ষা ও তাদের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে দাবি আদায়ের চেষ্টা করছেন। এটা খুবই নিন্দনীয়। আমরা তাদের দাবির প্রতি সমর্থন থাকলেও বার্ষিক পরীক্ষাকে জিম্মি করে ধর্মঘট কখনই সমর্থন করি না।
শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান, ফাওজিয়া ভূইয়া, মুনতাহা ফারিন ও রহিম রহমান জানান, শিক্ষকরা না থাকায় তাদের পরীক্ষা কার্যক্রম দারুনভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় প্রশ্ন না বুঝলে সেটা বোঝানোরও কোন লোক নেই। স্যার ম্যাডামদের মতো অভিভাবকগণের প্রশ্নপত্রের বিষয়বস্তু জানা নেই। আর এ কারণে তারা খুবই সমস্যায় পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, সরকার তাদের ১১তম গ্রেডের দাবি মেনে নিলেও আজ পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তফশিল ঘোষনা হলে নির্বাচন কমিশনের উপর সকল কার্যক্রম ন্যাস্ত হবে।
ফলে তাদের প্রজ্ঞাপন আর হবে না। এ কারণে নিরুপায় হয়ে তারা বার্ষিক পরীক্ষার সময়েও ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বস্তুতঃ উপজেলার ২৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলছে একইভাবে।
উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সরকারি নিদের্শনার আলোকে যেকোনভাবে তারা চলমান বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ করবেন। শিক্ষা অফিস থেকে সকল কর্মকর্তা উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন। অভিভাবকেরা এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছেন।