—ছবি মুক্ত প্রভাত
বাড়ি ভাড়াসহ তিন দফা দাবিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আন্দোলনে নেমেছেন। মূলত বেতনের বিশ শতাংশ নূন্যতম ৩ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়ার দাবি শিক্ষকদের। তবে ফেসবুক এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ন্যূনতম ৫% বাড়ি ভাড়া দিতে রাজি হয়েছে সরকার। কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষকরা সরকারের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
শিক্ষকদের দাবি শহরে বাড়ি ভাড়া এবং আগামী অর্থবছরের আরও ১০% শহরে টা বাড়ানো-নিশ্চয়তা দিতে হবে সরকারকে। তবেই আন্দোলন বন্ধ করা হবে।
আন্দোলনকারী শিক্ষক কর্মচারীদের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল শুক্রবার দুপুরে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আবরারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর সাংবাদিকদের কাছে সরকারের অবস্থান জানান উপদেষ্টা।
বর্তমান বাজেট বরাদ্দ প্রক্রিয়ার শেষ হওয়ার পর্যায়ে থাকা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পাঠানোর কথা উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এক নভেম্বর থেকে ৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দিতে পারবে অর্থ মন্ত্রণালয়। সেটি ন্যূনতম ২০০০ টাকা থাকবে। টাকা না থাকায় বেশি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষক কর্মচারীদের জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে যেন আরো কিছু শতাংশ বৃদ্ধি করা যায় সেটার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ করা হবে। সরকারের এই প্রস্তাবের শিক্ষক কর্মচারীরা রাজি হচ্ছেন না। এখন দশ শতাংশ এবং সআগামী বছর ১০ শতাংশের দাবি করছেন।
শিক্ষকদেবতা বলেন, 'বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারের বাইরে। ফলে শিক্ষক কর্মচারীদের প্রস্তাবে আমরা রাজি হইনি। অর্থসংস্থানের ব্যবস্থা থাকলে আমরা তা করতাম। বর্তমান বাজেটের যে অবস্থা তাতে ৫ শতাংশের বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়। আসন্ন পে কমিশন তা বাড়ানো বাড়ানো হবে।'
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভিন বলেন, তাদের হিসেব মতে দুই হাজার টাকা করে বাসা ভাড়া দিলে বই শতাংশ শিক্ষক কর্মচারী প্রায় ১০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন।
কিন্তু আন্দোলনকারী শিক্ষক কর্মচারীরা জানিয়েছেন এই প্রস্তাব তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য।
সচিবালয় শিক্ষক উপদেষ্টার সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা ফল পশু হয়নি। এ কারণে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দেয় শিক্ষক কর্মচারীরা।
শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষকদের অনাহারে অর্ধ হারে রেখে কোনভাবেই শক্তিশালী জাতি গঠন করা সম্ভব নয়। দুঃখজনক বিষয় হলো ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য জাতি গড়ার কারিগরদের রাজপথে নেবে আন্দোলন করতে হচ্ছে। এতে করে বহির বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে। সরকারের উচিত দাবি মেনে শিক্ষকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরত পাঠানো।
শিক্ষক প্রতিনিধি দেলোয়ারা জি জি বলেন, 'উপদেষ্টা মহোদয় আপনি আলোচনা করেননি। আলোচনার নামে আইওয়াশ করেছেন শিক্ষকদের সঙ্গে। '
শিক্ষকদের দাবি পূরণে সরকারের পদক্ষেপ দাবি করে শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, 'শিক্ষকরা আর কারো উপর ভরসা করছে না। একমাত্র ভরসা শিক্ষা উপদেষ্টা। যদি মন চায় সমাধান করেন। আর যদি মনে না চায় দাবানলের মত আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন দমানো যাবেনা।
শিক্ষক নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের অন্যান্য সেক্টরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বরাদ্দ দেয়া হলেও শিক্ষক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সরকারের যথেষ্ট অনিহা রয়েছে। অথচ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ালে সরকারের কোন ক্ষতি হবে না। বরং শক্তিশালী জাতি গঠন হবে। অনতিবিলম্বে শিক্ষকদের এই দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান সরকারের কাছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতনভাতার জন্য আতিক অনুদান দেয় সরকার। যা এমপিও নামে পরিচিত। বর্তমানে সারাদেশে ৬ লাখের বেশি শিক্ষক কর্মচারী এমপিও। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে আছেন ৩ লাখ ৯৮ হাজার, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে দুই লাখের মতো এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধিনে আছেন ২৩ হাজার শিক্ষক কর্মচারী।