—ছবি সংগৃহিত
আগামী নির্বাচনের প্রার্থীতা নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের দাবি করেছেন নাটোর জেলা বিএনপির সিনীয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ। তবে শীর্ষ নেতার সঙ্গে প্রার্থীতা নিয়ে কথোপকথনের বিষয়টি মনগড়া বলে অভিযোগ তুলেছেন অপর প্রার্থী নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু।
এনিয়ে দুই প্রার্থীর নেতা-কর্মী সমর্থকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিড়াজ করছে। দুই প্রার্থীর নেতাকর্মীরাই একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সোমবার সকালে বড়াইগ্রামের আহম্মেদপুরে দলীয় লিফলেট বিতরণ করেন প্রার্থী আব্দুল আজিজ। এ সময় কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর উপস্থিতিতে পথ সভায় বক্তব্যে তিনি বলেন- ‘আমি আপনাদের একটা সুসংবাদ শুনাতে চাই। রোববার রাতে পার্টি অফিস থেকে ফোন করে বলা হয়েছে আপনার সঙ্গে প্রিয় নেতা তারেক রহমান কথা বলতে চান। এর একটু পরেই ফোন চলে আসলো। তারেক রহমানের সঙ্গে আমার কথোপকথন হয়েছে প্রায় চার মিনিট। উনি আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন, অনুমতি দিয়েছেন। বলেছেন আপনি মাঠে নেমে যান-আপনাকে আগামী নির্বাচন করতে হবে। সমস্ত নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে বিভেদ ভুলে এক কাতারে এসে সাধারণ ভোটারদের কাছে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করেন। সমস্ত জনগণকে সাথে নিয়ে আগামী ত্রয়োদশ নির্বাচন আমাদের পারি দিতে হবে। তারেক রহমানের এই বার্তা নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছি।’
তার এই বক্তব্যর প্রেক্ষিতে দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে নাটোর-৪ আসনের প্রার্থী আব্দুল আজিজের কথোপকথনের বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যপক প্রভাব ফেলেছে। চা দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অফিসগুলোতে এই আলোচনা চলছে। অনেক নেতাকর্মী সাউন্ড বাজিয়ে এবং ভোজের মাধ্যমে বিষয়টি উদযাপনও করছেন। তবে অপর পক্ষের নেতাকর্মীরা বিষয়টিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে আব্দুল আজিজের এই কথোপকথন নিয়ে অপপ্রচারের দাবি তুলে সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন অপর প্রার্থী নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য ব্যরিস্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি তারেক রহমানের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার টেলিফোনে কথোপকথন হয়েছে। উনাকে এই আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, উনি নির্বাচন করবেন। এর আগেও ওই নেতার কাছ থেকে মনোনয়নের বিষয়ে সবুজ সংকেতের একাধিক ফেসবুক বার্তা দেখেছি। উনার কথাগুলো সবই মনগড়া। জনাব তারেক জিয়া নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কিন্তু জেলা এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে মনোনয়নের সতত্যা পাওয়া যায়নি। দল জানবে না অথচ উনি হঠাৎ করে মনোনয়নের কথা বলবেন, এটি মেনে নিতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে। দল যাকে মনোনীত করবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। কিন্তু গুরুদাসপুর এবং বড়াইগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার, ফেস্টুন ভেঙে ফেলা হচ্ছে। অফিস ভাঙার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি দ্ইু পক্ষের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাই। দল মনোনয়ন ঘোষণার পর আমরা তার পক্ষে কাজ করবো। এর আগে কেউ কিছু বললে সেই দায়ভার তাকেই নিতে হবে।’
এ বিষয়ে ব্যরিস্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু বলেন, মনোনয়ন নিয়ে আব্দুল আজিজের দাবি সঠিক নয়। কারণ দলের উচ্চ পর্যায় বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তার এই মনগড়া বক্তব্যে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ এবং উত্তেজনা বিড়াজ করছে। নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিতেই আমি সাংবাদিক সম্মেলন করেছি।’
আব্দুল আজিজ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ফোন পেয়ে তিনি কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু ব্যরিস্টার রঞ্জু দায়িত্বশীল জায়গা থেকে যা বলছেন, তা ঠিক করেননি।