—ছবি মুক্ত প্রভাত
“জীবন সংগ্রামে আমি ক্রান্ত। আমি আমার স্বামী সন্তানকে বাঁচাতে পারিছি না। আমার চোখে সামনে তারা হারিয়ে যাচ্ছে,নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। দয়া করে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। তা না হলে নিজেকে শেষ করা ছাড়া সামনে আমার আর কোন রাস্তা নেই। জানি আমি এটা ঘটালে আমার স্বামী ও সন্তানও বাঁচবে না। কেননা জমি সংক্রান্ত পারিবারিক কলহে নিজেকে প্রতিনিয়ত সইতে হয় টর্চার,শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন । স্বামীকে দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি। এভাবে আর বেঁচে থাকা যায় না”। সংবাদ সম্মেলনে এক কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মোছা আইভি নাজনীন বৃষ্টি (২৭) নামের এক গৃহবধু।
গৃহবধু আইভি উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নে বৃ-গড়িলা গ্রামের আহসান হাবিব মাঝির সহধর্মিনী। তার ঘরে রয়েছে ছয় বছরের এক মেয়ে সন্তান। তিনি মো.শরিফুল ইসলাম ওরফে ছকেদ (৪৫), মো.রওশন মাঝি (৫৫),মো.জিন্নাহ মাঝি (৫০),মো.সানাউল্লাহ মাঝি (৩৮), মো.রাকিবুল ইসলাম (২০)সহ ১২ জনের নাম অর্ন্তভুক্ত করে অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২২ জনের নামে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের একটি কক্ষে বাড়ি ভাংচুর,লুটপাট ,প্রাণনাশের চেষ্টার প্রতিবাদ ও জীবনের নিরাপত্তা ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আইভি নামের এক গৃহবধু লিখিত অভিযোগ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
অভিযোগ জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে আমার শ্বশুড়ের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আইভির ফুফু শ্বশুড়ের পুত্র ছকেদ এর সাথে আমার স্বামী আহসান হাবিবের কথা কাটাকাটি হয়। সেখানে আমার স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক সেই দিনেই রাত ১২টায় বিবাদী ছকেদ তার ১৫ থেকে ২০জনের দলবল নিয়ে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে আক্রমণ চালায়। বাড়ি দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করতে চেষ্টা করলে আমার স্বামী ভয়ে জীবন রক্ষার্থে পালিয়ে যায়। পরে তাঁরা ঘরে প্রবেশ করে আমাকে জিম্মি করে বাড়ি ভাংচুরও লুটপাট শুরু করে। আলমারীর ড্রয়ার ভেঙ্গে পুকুরের মাছ বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ও ১০ ভরি ওজনের স্বর্ণাংকার নেয়। যাওয়ার সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। সেই দিন সকাল ৬ দিকে আবারও তারা আক্রমণ করে খামারের ৫টি মহিষ লুট করে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগী আইভি বলেন, আমার শ্বশুড়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমি রয়েছে। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান। শ্বশুর অসুস্থ হয়ে পড়ায় সম্পত্তির উপর লোপ জাগে দুই ননদের। শরিফুল ইসলাম ওরফে ছকেদ এর ইন্ধনে চাচাত ভাইয়ের ছেলে ছোট ননদ শিউলির স্বামী সানাউল্লাহ বাড়িতে এসে জমির ভাগ নিয়ে আমাকে নানাভাবে নির্যাতন ও আমার স্বামীকে দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি। বর্তমানে তারা জীবনের নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। দ্রুত অভিভুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম ছকেদ অস্বীকার কওে মুঠোফোনে বলেন, আমার বিষয়ে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সেটা মিথ্যা ও বানোয়াট। উল্টো আহসান হাবিব আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করছেন।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দুলাল হোসেন বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয়ে থানাতে এক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।