আটা কিনতে দোকানে মানুষের ভিড়।—ছবি মুক্ত প্রভাত
সকাল ৮টা শহরের একটি দোকানের সামনে ব্যাপক মানুষের জটলা। কে,কার আগে ব্যাগ হাতে দোকানের সামনে গিয়ে দাড়াবে চলছে সেই প্রতিযোগিতা। একজন আরেকজনের উপর দিয়ে জোরজবস্তি করছে সামনে যাওয়ার।এমন চিত্র নিত্যদিনের ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল পৌর-শহরের শিবদিঘী বাজারের একটি দোকানের।
জানা গেছে,খাদ্য বান্ধব কর্মসুচি (ওএমএস) আওতায় সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত সকাল ৯টা থেকে বিকেলে ৫টা প্রযর্ন্ত শিবদিঘী পৌর বাজারের একটি দোকানে সরকারী দামে আঠা বিক্রি হয়। আঠা দিনব্যাপী বিক্রির নিয়ম থাকলেও দোকান খোলার ১ ঘন্টার মধ্যে বরাদ্দকৃত আঠা শেষ হয়ে যায়।
রোববার সকাল ১০টায় আঠা বিক্রির দোকান থেকে খালি ব্যাগ হাতে ফিরছিলেন বৃদ্ধ জীবন মিয়া,খালি হাতে ফেরার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,আঠা নিতে ভোর সকালে এসে লাইন ধরতে হয়, বা লাইনে ব্যাগ রাখতে হয়। সকালে আসতে দেরি হওয়ায় আঠা নেওয়ার সুযোগ হয়নি।
একইভাবে খালি ব্যাগে লিয়াকত,খাইরুন নেছা ফিরছিলেন। তারাও লাইনে না দাড়াতে পারায় খালি হাতে ফিরছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ যে পরিমাণ আঠা এখানে প্রতিনিয়িত বিক্রি হয়। তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তাই তারা দাবী তুলেছেন আঠার যোগান বাড়ানোর।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ থেকে জানা গেছে, রাণীশংকৈল পৌরশহরের শিবদিঘী,কলেজ বাজার,পলাশ মার্কেট,জয়কালিসহ ৬টি স্পটে ৬জন পরিবেশকের মাধ্যমে সপ্তাহে ৫দিন ২৪টাকা কেজি দরে উন্মুক্তভাবে আঠা বিক্রি করা হয়। পরিবেশকরা জানান,সমস্ত পৌর শহর জুড়ে প্রতিদিন সরকারী আঠা বরাদ্দ মাত্র ১ মেট্রিকটন। যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
শিবদিঘী বাজারের পরিবেশক মোকারম হোসেন বলেন, প্রতিদিন আঠা বরাদ্দ দেয় ৩৫০ কেজি। ৩কেজি হারে ১১৭ জনের মত মানুষকে দেওয়া যায়। কিন্তু প্রত্যেকদিন চাহিদা প্রায় ৪শত জনের। একইভাবে পলাশ মার্কেটের পরিবেশক মৌমিন ও কলেজ বাজারের শাহাজালাল বলেন, যে পরিমাণ আঠা বরাদ্দ পাওয়া যায়। তার থেকে বেশি চাহিদা করছে সাধারণ মানুষ। সকাল ১০ টা বাজতেই আঠা শেষ হয়ে যায়।
শিবদিঘী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম আর বকুল মজুমদার বলেন, বাজারের তুলনায় কম দামে আঠা পাওয়ায় নির্ন্ম ও মধ্যেবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরা সরকারী দরের এই আঠা ক্রয়ে ঝকুছে বেশি। তাই সরকারের উচিত আঠার যোগান বাড়ানো।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, প্রত্যেকদিন এক হাজার কেজি আঠা পরিবেশকদের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকার মানুষের চাহিদা অনুযায়ী যোগান কম। এ রকম অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। আঠার বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য উপরের মহলে যোগাযোগ করা হচ্ছে।