ধসে যাচ্ছে চিলমারী—কাশিমবাজার সড়ক, চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি।—ছবি মুক্ত প্রভাত
চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি সড়ক যেন মৃত্যু ফাঁদে পরিনত। চিলমারী-কাশিমবাজার সড়কের একাধিক স্থানে ধস দেখা দেয়ায় যাতায়াতকারীদের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে ধসসহ ব্লকেও ধস দেখা দেয়ায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় চালকের মাঝেও সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্কের। স
ড়ক নির্মানে কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনিয়ম আর দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ায় ধসের সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষজনের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। ভোগান্তি আর ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে লক্ষাধিক মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলা সদর থেকে পাশ্ববর্তী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাশিমবাজারসহ কয়েকটি এলাকার যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি কিছুদিন আগেই কাজ শেষ হয়। সড়কের নির্মানের পর গুরুত্ব বেড়ে যায় এলাকাগুলোর সাথে। বছরের পর বছর থেকে যাতায়াতের কষ্টকরা লক্ষাধিক মানুষের মুখে হাসি ফোটে। সেই সাথে হরিপুর মাওলানা ভাসানি সেতু চালু হওয়ায় এই সড়কের গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়।
কিন্তু সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধিনে নির্মিত চিলমারী-কাশিম বাজার সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টিসহ ধস দেখা দেয়ায় চলাচলে বেড়েছে ঝুঁকি দেখা দিয়েছে ভোগান্তি। সড়কে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে মৃত্যু ফাঁদে। সাম্প্রতি কয়েকটি স্থানে ধস দেখা দিলে নামে মাত্র জিও ব্যাগ ফেলালেও আবারো নতুন স্থানে নতুন করে ধস দেখা দেয়ায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বার বার নতুন নতুন স্থানে ধস দেখা দেয়ায় কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ইতি পূর্বে চিলমারী বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক মিয়ার ছেলে নাজিম ঐ সড়ক দিয়ে মটর সাইকেল করে কাশিম বাজার যাওয়ার পথে গর্তে পরে ঘটনাস্থলে মারা যান। সড়কের গর্তের মেরামত না করায় রিক্সা, অটোরিক্সা, ভ্যান গাড়ি সহ পথচারী ছোট-খাটো দুর্ঘটনার শিকার প্রতিদিনই হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ সড়ক নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম আর দুর্নীতি করেছে সংশ্লিষ্টরা। তারা আরো বলেন, কাজ চলাকালিন দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের অভিযোগ করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি, বরং উল্টো ভয় দেখানো হয়েছে চাঁদাবাজি মামলায় ঢুকে দেয়ার।
এদিকে নতুন করে এই সড়কে বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় ধসের কারনে বাস সার্ভিস নিয়েও বিপাকে চালক। সড়ক এবং ব্লকের মাঝে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি তো আছেই জানিয়ে অটো চালক বাবলু বলেন, দিনে তো দুর থেকে দেখা যায় রাতে ধসের ফলে সৃষ্টি গর্ত গুলো বোঝা মুশকিল। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধসের স্থান গুলো মৃত্যু ফাঁদ মন্তব্য করে শিক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, সড়ক নির্মানে কতদিন আর হবে এর মধ্যে ব্লক ও সড়কে ধস এবং গর্ত সৃষ্টি এটি বড়ই বেমানান। দুর্ভোগ আর ঝুঁকি নিয়ে চলছি জানিয়ে ট্রাক চালক বলেন, এভাবে ধস হতে থাকলে সড়কে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
স্থানীয়রা বলেন, যেভাবে বিভিন্ন স্থানে ব্লক ও সড়কে ধস দেখা দিয়েছে, আমরা তো সড়ক নিয়ে চিন্তিত এ ব্যাপারে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ি করেন।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মোমেন বলেন, আমি নতুন এসেছি বিষয়টি আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে সমস্যার সমাধান করা হবে।