—ছবি মুক্ত প্রভাত
রাজশাহীর একটি পশুর হাট থেকে কোরবানির গরু কিনে এ্যাসিল্যান্ডের গাড়িতে করে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নিয়ে গেলেন সেখানকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হা-মীম তাবাসসুম প্রভা। সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়িতে গরু বহনের ঘটনায় সমালোচনাও শুরু হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে দোষের কিছু দেখছেন না ইউএনও।
ইউএনও হা-মীম তাবাসসুম বাগাতিপাড়ার সহকারি কমিশনারের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন। একারণে এ্যাসিল্যান্ডের গাড়িটি এদিন ব্যবহার করে রাজশাহীতে সরকারি সভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সভা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের সিটি হাটে গিয়ে ইউএনও নিজেই গরুটি কিনেছিলেন। পরে গরু বহনের জন্য বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা না করে ইউএনওকে বহনকারী এ্যাসিল্যান্ডের গাড়ির পেছনে গরুটি বহন করা হয়। একই গাড়ির সামনে বসা ছিলেন ওই কর্মকর্তা।
এ্যাসিল্যান্ডের গাড়ি চালক সুমন আলী বলেন, ঈদে ছুটি পাননি ইউএনও। একারণে কোরবানি দেওয়ার জন্য পশু খুঁজছিলেন। রাজশাহীতে সভা শেষে একটি পশুর হাটে গিয়ে মাঝাড়ি গড়নের একটি গরু কেনা হয়। ইউএনওর নির্দেশে তিনি গরুটি গাড়ির পেছনে তুলে নিয়ে বাগাতিপাড়ায় আসেন।
গাড়িতে গরু বহন করা যাবে না এমন পরিপত্র নেই জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হা-মীম তাবাসসুম প্রভা বলেন, বাগাতিপাড়ায় কোরবানির পশুর হাট নেই। ফলে গরু কেনা নিয়ে তিনি নিজেও বেশ চিন্তিত ছিলেন। সুযোগ পেয়ে রাজশাহী থেকে আড়াই মণ ওজনের একটি গরু কিনেছেন।
ইউএনও বলেন, ‘ভ্রাম্যমান আদালত চালাতে গিয়ে জব্দ করে অনেক কিছুই তো গাড়িতে বহন করতে হয়। তাছাড়া আমি তো গাড়িতে অবৈধ কিছু বহন করিনি। এক প্রকার বাধ্য হয়ে গরুটি গাড়ির পেছনে তুলে নিয়েছি। অথচ বিষয়টি নিয়ে নানা ধরণের মন্তব্য করা হচ্ছে।
রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ইউএনওকে বহনকারী সরকারি গাড়িতে গরু বহন করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিন্দনীয়। আগামীতে যাতে অন্য কোনো কর্মকর্তা এ ধরণের কাজ না করেন সে ব্যাপারে সতর্ক করা হবে।