—ছবি মুক্ত প্রভাত
ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের বাড়ি থেকে শুরু করে দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, সাবেক সংসদ সদস্যদের বাড়ি ভাঙচুরের পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগুন দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বাড়িতেও।
এছাড়া নাটোরে সাবেক এমপি শিশুলের বাড়িতে ভাঙচুরের পর আগুন, আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বগুড়ায় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদের কার্যালয় এবং ফেনীতে আওয়ামী লীগের সাবেক তিন সংসদ সদস্যের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। ঝালকাঠিতে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে আমীর হোসেন আমুর বাড়ি।
প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা
রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক এমপি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাসায় আগুন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারী) দুপুরে বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা মহল্লায় তিনতলা বাসভবনে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে বাঘা উপজেলা সদর ও চারঘাটের দিক থেকে শতাধিক মোটরসাইকেলে বিক্ষুব্ধ লোকজন বাড়িটির সামনে যান। এরপর কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, বাড়ীর ভিতরে আগুন জ্বলছিলো। দুপুর ২ টা পর্যন্ত বাড়িটি থেকে ধোয়া উড়তে দেখেছি। ততক্ষণে কেউ বাড়ীতে নেভানোর কাজে এগিয়ে আসেনি। এমনটি ফায়ারসার্ভিস কর্মীদেরও দেখা যায়নি।
শাহরিয়ার আলম ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথম রাজশাহী-৬ (বাঘা- চারঘাট) আসনের এমপি নির্বাচিত হন। এরপর আরও তিনবার এ আসনের এমপি হন। দুই মেয়াদে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তবে দ্বাদশ সংসদে তিনি মন্ত্রিত্ব পাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের দিন রাজশাহীর প্রায় সব এমপি ও মেয়রের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। তবে শাহরিয়ারের বাড়িটি একেবারেই অক্ষত ছিল। বৃহস্পতিবার শেষ পর্যন্ত বাড়ীটিও জ্বালিয়ে দেওয়া হলো।আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে শাহরিয়ার আলম আত্মগোপনে আছেন।
গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙচুরের অংশ হিসেবে এক্সকেভটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টা থেকে শহরের কান্দিভিটুয়ার দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর শুরু করেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয়রা জানান, শহরের কান্দিভিটুয়ার একটি একতলা ভবনে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম চালানো হতো। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পালিয়ে যান। তবে ৫ আগস্টের পর এই কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেনি।
বুধবার ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুরের পর বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে একটি এক্সকেভেটর দিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়।
বৈষম্য ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি তৌফিক নিয়াজ বলেন, ঢাকায় চলছে স্বৈরাশাসকের আঁতুঘর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ। তারই অংশ হিসেবে নাটোরেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা স্বৈরাচারীদের কার্যালয় নিশ্চিহ্ন করছে।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধীরা চায় দেশের কোথাও যেন স্বৈরাশাসকের চিহ্ন না থাকে। স্বৈশাসকরা মাথাচারা দিলে বা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে এভাবেই তা রুখে দিবে ছাত্র-জনতা।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদা শারমিন নেলী বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয় বাঙচুর হলেও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।
ঝালকাঠিতে আমির হোসেন আমুর বাড়ি ভাঙচুর
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ঝালকাঠি শহরের বাসভবন ভাঙচুর করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও জনতা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের রোনালসে সড়কের বাসভবন ভাঙচুর শুরু করে ছাত্র-জনতা। এর আগে সুগন্ধা নদীর তীরে ডিসি পার্কে অবস্থিত ফিরোজা আমু টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাইনবোর্ড ভেঙে গুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা।
এ সময় পাশে থাকা ফিরোজা আমু হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের নামফলকও ভাঙচুর করে তারা।
বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করেছিল। তাদের আমলে অবৈধভাবে এমপি মন্ত্রীরা সম্পদের পাহার গড়ে তোলেন। এই অবৈধ সম্পদের পাহার গড়ে তোলার মধ্যে ঝালকাঠির সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুও রয়েছেন।
তিনি জোরপূবর্ক কালেক্টরেট স্কুলের জমি দখল করে নিজের ও তাঁর স্ত্রীর নামে দুটি প্রতিষ্ঠান করেছিলেন। ফ্যাসিবাদের দোসরদের সকল আস্তানা ভেঙে দেওয়া হবে বলেও জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমরা এই মাত্র শুনেছি। খোজ খবর নিচ্ছি।