লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ক্রয়কৃত জমি বেদখল ও ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবার। শুক্রবার (১২ মে) সকালে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়াইপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন আবু তালেবের পরিবার। আবু তালেবের গলায় সমস্যা থাকার কারণে সংবাদ সম্মেলনে তার ছোট ভাই তোতা মিয়া লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
এ সময় তোতা মিয়া বলেন, তার বড় ভাই আবু তালেব গত ১২ মার্চ টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ০১ নং ওয়ার্ডের মৃত- সহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেকের কাছ থেকে ১০.৩৯ শতক জমি আবাদি ধানসহ সাব কবলা মূল্যে ক্রয় করে ভোগদখল বুঝে নেয়। (যাহার খতিয়ান নং১১৫৮, বিআরএস দাগ নং- ৭৮৮ এর ২২ শতক জমির মধ্যে ১০.৩৯ শতক)।
এই সংবাদ পেয়ে আব্দুল মালেকের ওয়ারিশ বর্গ মোস্তাফিজার রহমান, লিয়াকত হোসেন শুভ, মাইদুল ইসলামসহ আরও অনেকে আমার ভাইকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে। তার অবর্তমানে বাসায় গিয়ে স্ত্রী সন্তানদেরকে নানা রকম হুমকি, ভয়ভীতি দেখিয়ে আসে। আমার ভাইয়ের নামে তারা স্থানীয় থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনা বেগতিক দেখে আত্মরক্ষার স্বার্থে আমার বড় ভাই আবু তালেব উপরোক্ত ব্যক্তিগণের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট বিজ্ঞ আদালতে গিয়ে ১০৭/১১৭ ধারা মামলা রুজু করেন। বিষয়টি জানার পরে উপরোক্ত ব্যক্তিগণ আবারও আমার ভাইয়ের ও তার পরিবারের নামে বিভিন্ন ধরনের কুৎসা রটায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালায়। আমার ভাই তার ক্রয়কৃত জমির ইরি ধান কাটতে গেলে তিনিসহ তার লোকজনকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
পরে আমার ভাই কোন উপায় না পেয়ে আবারো বিজ্ঞ আদালতে গিয়ে উক্ত জমির উপর ১৪৪/১৪৫ ধারা রুজু করেন। এদিকে গত- ০৬/০৫/২০১৩ ইং রাতের আধারে উক্ত ব্যক্তিগণ আদালতের আদেশ অমান্য করে আমার ভাইয়ের উক্ত জমির ইরি ধান কেটে নিয়ে যায়। বিষয়টি আমার ভাই জানার সাথে সাথে ৯৯৯ কল করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কিছু ধান উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর পুলিশ চলে যাবার পর উক্ত ব্যক্তিগণ আমার ভাইয়ের জমি আবারও বেদখল করে চারদিকে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখে।
পরবর্তীতে আমার ভাই থানায় গিয়ে জানতে পারে যারা তার জমির ধান কেটে নিয়ে গেছে, তারাই উল্টো আমার ভাইয়ের নামে থানায় ধান চুরির মিথ্যা মামলা করেন।
আমার ভাইয়ের বেদখলিয় জমি উদ্ধার ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আপনাদের মাধ্যমে প্রসাশনের শুভদৃষ্টি কামনা করছি।
জমি বিক্রেতা আব্দুল মালেক বলেন, পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া রেকর্ড মুলে আমার জমি আবু তালেবের কাছে বিক্রি করে তাকে ভোগদখল বুঝিয়ে দেই। এরপর তারা কি কারণে সে জমি দখল করে সেটা আমি জানিনা। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তারা উল্টো আমিসহ আমার পরিবারের নামে থানায় মিথ্যা মামলা করেন।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে জমি বিক্রেতা আব্দুল মালেকসহ আবু তালেবের পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।