গুরুদাসপুরে জোরপূর্বক বসতভিটা দখলের অভিযোগ
গুরুদাসপুরে দরিদ্র কৃষক বাবলু মোল্লা’র বসতভিটার উপর ঘর নির্মাণ করে জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এঘটনায় থানায় বাদী হয়ে গত বৃহপতিবার দুপুরে প্রভাবশালী রওশন আলীসহ ৭জনকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন দরিদ্র কৃষক বাবলু মোল্লা।
এদিকে অভিযোগের চার দিন পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। ফলে জায়গা হারানোর শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সেই কৃষক। বাধ্য হয়ে
সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে নিজ বাড়ীতে বসতভিটার উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক পরিবার।
বাদী কৃষক বাবলু মোল্লা গুরুদাসপুর উপজেলার বিলসা গ্রামের মৃত আব্দুস সোবাহান মোল্লার ছেলে। আর বিবাদী নিজ গ্রামের বাসিন্দা সম্পর্কে চাচা রওশন আলী।
বিবাদী রওশন আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি অন্যের জায়গা দখল করে নয়, নিজ জাযগার
উপর ঘর নির্মাণ করছি।
বাদি পক্ষের অভিযোগ, বালষা মৌজায় ১০৭০ খতিয়ানে ৮৭৯ দাগে আমার বাবার রেখে যাওয়া ১১শতাংশ বসতভিটা। আমার ভিটার ৮শতাংশ জায়গার দখল নিয়ে পাকা ঘর নির্মাণ শুরু করেন প্রভাবশালী রওশন আলী।
এসময় সার্ভেয়ার দ্বারা মাপযোগ করে তাদের জায়গার উপর ঘর নির্মান করতে বলেন বাবলু। তার কোনো কথা না শুনে দলীয় ক্ষমতা দেখিয়ে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন রওশন।
এমনকি তাকে মারপিট ও খুন জখমের হুমকিও দেওয়া হয়। স্থানীয়রা জানায়,বাবলু দরিদ্র হওয়ায় তার উপর জুলুম করে আওয়ামীলীগের ক্ষমতা দেখিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও হয়রানি করেন তিনি। এখন আবার তার বসতবাড়ির জমি জোরপূর্বক দখল করে পাকা ঘর নির্মান করছেন তিনি।
বাবলু মোল্লা বিভিন্ন রকম অভিযোগ তুলে ধরে সাংবাদিকদের আরও বলেন, রওশন প্রভাবশালী হওয়ায় বিভিন্ন সময় আমাদের নানভাবে হয়রানি করেছেন। ইতিমধ্যে
বসতবাড়ির ৮শতাংশ জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মান করছেন।
সার্ভেয়ার দিয়ে মেপে ঘর নির্মানের কথা বললে সে আমাকে মারপিট, খুন জখমের হুমকিও দিচ্ছেন। নিজের জীবনের নিরাপত্তা ও জমি ফেরত পেতে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে শংশয়।
বিবাদী রওশন আলী মেঠোফোনে বলেন, ৪০বছর পূর্বে বাবলুর মোল্লা’র বাবার নিকট তাঁর বসতভিটার ৮শতাংশ জায়গা কিনেছেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ
মারা যাওয়ায় পরবর্তীতে সেটা আর রেজিষ্ট্রি করা হয়নি।
কিনা সেই ৮শতাংশ জায়গার উপর আমার কাঁচা ঘরও ছিল। সেটা ভেঙ্গে নতুনভাবে পাকা ঘর নির্মাণ করছি মাত্র। গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম সরোয়ার হোসেন বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। পরবর্তীতে বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেছেন।