হাসপাতাল থেকে শুরু করে দলিল লেখক অফিস। পরতে পরতে অবাদ ঘুষ-দুর্ণীতি। ঘুষ দেওয়ার পরও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দুর্ণীতির এই ভয়াল গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিবেদন করেছেন গুরুদাসপুরের বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা।
গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের সাথে প্রশাসনের মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল গতকাল মঙ্গলবার। এতে উপস্থিত অংশ নিয়েছিলেন, সরকারি অফিসের কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। সভায় শিক্ষার্থীরা নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, শুধু ঘুষ-দুর্ণীতি বন্ধ নয়, বাজারেও স্বস্তি ফেরাতে হবে। সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দ্রব্যমূল্য হাতের নাগালে এনে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বতি ফেরাতে হবে। বাজার তদারকির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বান জানান বৈষম্যবিরোধী এসব শিক্ষার্থীরা।
কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক শহীদ সোহরাওয়াদী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী অমিত্য সরকার বলেন, পাঠশালাতেও দুর্ণীতি ঢুকেছে। সেখানেও ঠিকমতো পাঠদান করা হয়না। শিক্ষকেরা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত থেকে অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে নানা ধরণের আর্থিক অনিয়মে ব্যস্ত।
একারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এখন সময় এসেছে এসব দুর্ণীতিবাজদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেওয়ার। এজন্য তারা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের মানুষের সহায়তা চান।
আরেক সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী স্বাধীন বলেন, সরকারি বেসরকারি অফিসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ণীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হলো- হাসপাতাল, ভূমি অফিস ও সাবরেজিষ্ট্রি অফিস। এসব প্রতিষ্ঠানে ঘুষ দেওয়ার পরও সাধারণ মানুষ কাঙ্খিত সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি এসব অফিসকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওয়াতায় এনে দুর্ণীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আরো সচেষ্ট হতে হবে। সচেতন হতে হবে সাধারণ মানুষদেরও।
তিনি বলেন, সব ধরণের বৈষম্য দূর করতে ছাত্র আন্দোলণের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটানো হয়েছে। ঘুষ-দুর্ণীতি বন্ধ করে সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলো স্বচ্ছ করতে না পারলে ছাত্রদের এই সাফল্য বিফলে যাবে। তাই তিনি সকলকে একসাথে অনিয়ম-দুর্ণীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শুরু হওয়া ওই সভা চলে দুপুর ১টা পযর্ন্ত। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা আক্তার। এসময় সহাকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
সালমা আক্তার বলেন, দুর্নীতিমুক্ত উপজেলা গড়তে শিক্ষার্থীদের পাশপাশি সকল শ্রেণিপেশার মানুষের একান্ত সহয়োগীতা প্রয়োজন। সহযোগিতা পেলে উপজেলার সব দপ্তরকে শতভাগ স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব।