সেতুর বর্তমান পরিস্থিতি।—ছবি মুক্ত প্রভাত
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর-উধুনিয়া-বাবুলিদহ আঞ্চলিক সড়কে ত্রিমোহনী ঘাটে দুর্গাদহ নদীর উপর নির্মানাধীন সড়ক সেতুর কাজ ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়ে আছে।
এতে ওই পথে চলাচলে স্থানীয় লোকজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহনের জটিলতায় সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে বলে বলছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উল্লাপাড়া অফিস।
সংশ্লিষ্ট বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবীর লিটন এই সেতুর ঠিকাদারের গাফিলতিকে দায়ী করছেন। বাংলাদেশ সরকার এই সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রায় ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সিরাজগঞ্জের এসই-এসসি (জেভি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, উক্ত সড়কে বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়নের ত্রিমোহিনি ঘাটে দুর্গাদহ নদী পারাপারে তারা প্রায় ৫০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে ৪/৫ মাস নৌকাতে নদী পারাপার হতে হয়। শুকনো মৌসুমে নদীর পানি কমে গেলে প্রায় ৭ মাস নিজেরা চাঁদা দিয়ে বাঁশের মাচান তৈরি করে নদী পারাপার হয়ে থাকেন তারা। এই ঘাটে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি ছিল তাদের বহুদিনের।
অবশেষে ২০২১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এই ঘাটে নদীর উপর একটি পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। শুরু হয় মাপজোক ও মাটি পরীক্ষার কাজ। বাংলাদেশ সরকার এই সেতু নির্মাণের জন্য ৬ কোটি ৯০ লাখ ৬৭ হাজার ১৮৭ টাকা বরাদ্দ দেয়।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এক বছরের মধ্যে এর প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন সেতুর উপরের একটি পাটাতন এবং দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদারের গাফিলতি ওভুমি অধিগ্রহনের জটিলতায় সেতুটির কাজ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ।
সেতুর বর্তমান পরিস্থিতি।—ছবি মুক্ত প্রভাত
এ অবস্থায় বিশেষতঃ উধুনিয়া, বড়পাঙ্গাসী ও লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদেরকে এই পথে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীটি পানিপূর্ণ হয়ে অনেক প্রশস্ত হয়। দুই পাশে কোনো যাত্রী ছাউনি নেই। ফলে নৌকায় পারাপারের জন্য লোকজনকে বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষা করতে হয়। ভুক্তভোগী লোকজন তাদের ভোগান্তি নিরসনে অবিলম্বে সেতুটির কাজ সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
শুকলাই গ্রামের সেলিম রেজা, মনিরুল ইসলাম, ফজুলুল হক জানান, দুর্গাদহ নদীতে সড়ক সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় তাদের উক্ত আঞ্চলিক সড়কে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় শিক্ষার্থীদেরও নদী পারাপারে কষ্ট করতে হচ্ছে। এরা তাদের ভোগান্তি নিরসনে অবিলম্বে সেতুটির কাজ সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বড়পাঙ্গাসী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবীর লিটন জানান, ঠিকাদারে দায়িত্বে অবহেলা এবং গাফিলতির কারণে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি এবং দীর্ঘদিন ধরে অসম্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুর স্লাব নির্মাণ শেষ হলে যেকোনোভাবে হোক সংশ্লিষ্ট ভুমি মালিকদের সংগে সমঝোতা করে দুই পাশে সংযোগ রাস্তা নির্মাণ সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানের অভিযোগ সম্পর্কে সেতু নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিরাজগঞ্জের এসই-এসসি (জেভি) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার মোঃ স্বপন উদ্দিনের সংগে কথা বললে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা কাজে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আসলে ভুমি অধিগ্রহনের জটিলতা, সংশ্লিষ্ট ভুমি মালিকদের বাধা এবং নদীতে পাইলিংয়ের কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে সেতুটির নির্মাণ কাজ সময় মতো সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি। তবে নদীর পানি একটু কমে গেলে তিনি আবার কাজ শুরু করবেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উল্লাপাড়া অফিসের উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আবু সায়েদের সংগে কথা বললে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান, দুর্গাদহ নদীর উপর সড়ক সেতু নির্মানের জন্য নদীর দুই পাশে ভুমি অধিগ্রহন করতে হয়েছে। কিন্তু অধিগ্রহনের পর ভুমি মালিকদের টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়া বেশ লম্বা। ফলে ভুমি মালিকেরা টাকা না পাওয়ায় তারা সেতুর নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে আসছেন।
একই সঙ্গে এখন নদীতে অনেক পানি রয়েছে। ফলে সেতুটির কাজ বন্ধ হয়ে আছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে অধিগ্রহনকৃত সংশিষ্ট ভুমি মালিকদের সংগে কথা বলে এ ব্যাপারে একটি সমঝোতার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন। ভুমি মালিকেরা রাজি হলে সেতুর অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সেলিনা মির্জা মুক্তির সংগে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, দুর্গাদহ নদীর উপর সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ হওয়ার বিষয়টি তিনি অবহিত হয়েছেন।
আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ভুমি মালিকদের সংগে কথা বলে সমঝোতার ব্যবস্থা নেবেন। এরপর সেতু নির্মাণ কাজ নতুন করে শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।