পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তাকর্মী শাহাদত
রাজধানীর কাফরুলে তিন কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি। মিরপুরেও রয়েছে একটি ফ্ল্যাট। নারাণয়নগঞ্জে কিনেছেন কয়েক বিঘা জমি। এছাড়া গ্রামের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপশহর এলাকায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের ৮ শতাংশের একটি জমি এবং সরকারপাড়া এলাকায় আরো ৫ শতাংশ জমির মালিক হয়েছেন পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তাকর্মী শাহাদাত হোসেন।
তিনি নাটোরের সিংড়া উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাদিরগাছা এলাকার বাসিন্দা। চাকরি করছিলেন পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে। তার মেয়েও চাকরি করছেন ঢাকা পাসপোর্ট অফিসে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) অধীনে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় গত ৫ জুলাই সিআইডির হাতে যে ১৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের একজন শাহাদাত হোসেন। বরাবরই তিনি পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ৬ থেকে ৭ বছর আগে তিনি এসব সম্পদের মালিক ছিলেন না।
শূণ্য থেকে উঠে এসে বর্তামানে গাড়ি-বাড়ি, নগদ অর্থ আর জমাজমি মিলিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এসব সম্পদ তিনি গড়েছেন প্রশ্নপত্র ফাঁস করে।
সিংড়ার স্থানীয় লোকজন জানান, পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন শাহাদাত হোসেন। বছরে দুই একবার গ্রামে আসেন। তারপরও গ্রামের বাড়িতে ৩ বিঘার ওপর একটি ফলের বাগান ছাড়াও বিলে কৃষি জমি কিনেছেন ৫ বিঘা।
শাহাদতের গ্রামের জমিজমা দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়জিত আছেন তারই খালাতো ভাই হানিফ আলী। তিনি জানান, পৈত্তিক সূত্রে শাহাদাত তেমন কোনো সম্পদের মালিক হতে পারেননি। তবে বিগত ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে শাহাদাত অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শাহাদাত শহরে থাকেন। গ্রামে শাহাদাতের যেসব জমিজমা রয়েছে তা তিনি নিজেই দেখভাল করেন।
শাহাদত হোসেনের চাচাত ভাই হাফিজুর রহমান জানান, সিংড়ার সাবেক সচিব মখলেছুর রহমানের মাধ্যমে চাকরি পান শাহাদাত। চাকরি জীবনে শাহাদত প্রথমে কুমিল্লা পাসপোর্ট অফিসে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে যোগদান করেছিলেন।
এরপর রাজশাহী থেকে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে আছেন। গ্রামে বাবা মায়ের ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জায়গা ছাড়াও কিছু জায়গা কিনেছেন। শাহাদতের বড় ভাই সাইদুল ইসলাম জানান, আপন ভাই হওয়া সত্তেও শাহাদত তাদের খোঁজ-খবর রাখেন না। গ্রামেও আসেন না। ঢাকায় শাহাদাতের দুইটি নিজস্ব বাড়িসহ সিংড়া শহরে তিনটা ভিটা রয়েছে।
তাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন বলেন, হঠাৎ করেই শাহাদাতের চলন বলন পরিবর্তন হয়। গ্রামে জমিজমা কেনা দেখে এলাকার মানুষ অবাক বনে যান। নিরাপত্তাকর্মী হয়ে কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন শাহাদাত। সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের তালিকায় শাহাদাতের নাম এসেছে। এখন তারা জেনেছেন প্রশ্নপত্র ফাঁসের টাকায় এসব সম্পদ গড়েছেন শাহাদাত।
এদিকে রাজধানীর কাফরুলের বাসিন্দারা জানান, কাফরুল-ইব্রাহিমপুর এলাকায় শাহাদাতের যে বাড়ি রয়েছে সেটির জমির দাম প্রতি কাঠায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা। সূত্র বলছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসে শাহাদাতকে সহায়তা করতেন পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মামনুর রশিদ।
তিনিও বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল হোতা সৈয়দ আবেদ আলী, খলিলুর রহমান ও সাজেদুল ইসলামের সঙ্গে শাহাদাতের পরিচয় হয় পাসপোর্ট অফিসে চাকরির সুবাদে। শাহাদাত গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত এলাকার মানুষজন তাকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে জানতেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর শাহাদাতের আসল পরিচয় সামনে আসে।