চালককে মারধর করে ওই রিকশায় থানায় আসলেন এএসআই
‘আরে বেটা আমি তো বলছি, তুই যা, একে বারে কান ফাটায় ফেলব যা. . যা. . ।’ এই ভাষাতেই অটোরিকশা চালক হারুন আলীকে (৪০) গালিগালাজ করেন নাটোরের সিংড়া-থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সেলিম রেজা। পরে রিকশা চালকের পিঠে এবং মাথায় কিলঘুষিসহ টর্চলাইট দিয়ে আঘাত করেন।
বাধ্য করেন রিকশায় তাদের বহন করে সিংড়া থানা প্রর্যন্ত নিয়ে যেতে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সিংড়া উপজেলা পরিষদ সড়ক এলাকার দেশ ফার্নিচার নামের একটি দোকানের সামনে। ওই ঘটনার ২ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে।
অটোরিকশাচালক হারুন আলী সিংড়া পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাইশা মহল্লার বাসিন্দা। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে চার সদস্যের সংসার চালান। সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর শনিবার অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য সেলিম রেজাকে সিংড়া থানা থেকে ক্লোজ করে নাটোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অটোরিকশা নিয়ে চালক হারুন আলী দেশ ফার্নিচারের সামনে আসামাত্রই এএসআই সেলিম রেজা অটোরিকশাটি থামান। সঙ্গে সঙ্গে এএসআই সেলিম রেজাসহ তিন পুলিশ সদস্য অটোরিকশায় ওঠে পড়েন। এ সময় অটোরিকশাচালক হারুন আলীকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, অটোরিকশার মিটারের তার ঠিকমতো কানেকশন পাইতেছে না। এক হাতে তার ধরে অন্য হাতে অটো চালাতে হইতাছে।’ চালকের এই কথা শুনে এএসআই সেলিম রেজা ক্ষিপ্ত হন। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আরে বেটা আমি তো বলছি, তুই যা, একে বারে কান ফাটায় ফেলব যা. . যা. . ।’
যেতে না চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে সেলিম রেজা ক্ষুব্ধ হয়ে অটোরিকশাচাল হারুন আলীর পিঠে কয়েকটি কিলঘুষি মারেন। একপর্যায়ে হাতে থাকা টর্চলাইট দিয়ে তাঁর পিঠে ও মাথায় আঘাত করা হয়। এসময় ভয়ে হারুন আলি কান্না শুরু করলে আশেপাশের দোকানি ও পথচারীরা এগিয়ে আসেন। তবুও ওই রিকশাতে হারুন সেলিম রেজাসহ তিন পুলিশ সদস্যকে সিংড়া থানা পর্যন্ত বহন করতে বাধ্য চালক হারুন আলী। তবে এএসআই মো. সেলিম রেজা মোবাইলফোন না ধরায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অটোরিকশাচালক হারুন আলী বলেন, অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে তার চার সদস্যের পরিবার চলে। ঘটনার দিন তার অটোরিকশাটিতে সমস্যা থাকায় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে যেতে চাননি তিনি। একারণের মারধরের শিকার হয়েও রিকশা ঠেলে পুলিশ সদস্যদের থানায় পৌঁছে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। এই অন্যায়ের বিচার চান তিনি।
সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, অটোরিকশা চালক হারুন আলীকে মারধরের পর ওই অটোরিকশাতে চড়ে সিংড়া থানা পর্যন্ত এসেছেন পুলিশ সদস্য সেলিম রেজা। এই অভিযোগটি তিনি নানাভাবে শুনেছেন। তিনি বলেন, অটোরিকশাচালক এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। তার জানামতে- পৌর শহরে পুলিশি টহলের জন্য অটোরিকশাটি নিতে চেয়েছিলেন এএসআই সেলিম রেজা। কিন্তু ভুক্তভোগী অটোচালকের আপত্তি থাকায় অটোরিকশাটি নেওয়া হয়নি। অটোরিকশার চালক হারুন আলী ও এএসআই সেলিম রেজাকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেবেন তিনি।