ভাঙন রোধে বাসন্ডা নদীর পাড়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি- ছবি মুক্ত প্রভাত
ঝালকাঠি পৌরসভার ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ঝালকাঠি এলাকা ভাঙন রোধে বাসন্ডা নদীর পাড়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শহরতলীর বাদামতলী খেয়াঘাট এলাকায় পশ্চিম ঝালকাঠি বাঁচাও আন্দোলন পরিষদ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল সাহা। লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী খেয়াঘাট এলাকা থেকে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কিস্তাকাঠি আবাসন প্রকল্প পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার বাসন্ডা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে খালের পাড়ের চার শতাধিক পরিবার। হুমকিতে আছে তিনটি লবণ উৎপাদনের কারখানা, দুটি মসজিদ ও পাকা স্থাপনা। পাশাপাশি খালের পাড় ভেঙে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ছে বসতবাড়িতে। বাসন্ডা নদীর ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পৌর কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই।
ঝালকাঠি পৌরসভার ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডকে মূল শহর থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে বাসন্ডা নদী। একসময় ৬ ও ৭ নম্বর দুটি ওয়ার্ড সদরের বাসন্ডা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ’৯০–এর দশকে ওয়ার্ড দুটি পৌরসভায় যুক্ত হয়। তবে দুই দশকেও এ দুটি ওয়ার্ডে উন্নয়নের ছোঁয়া তেমন লাগেনি।
অতুল মাঝির খেয়াঘাটটিও দীর্ঘদিনে সংস্কার করা হয়নি। এটি বাসন্ডা খালে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়কই কাঁচা। বর্ষাকালে এ ওয়ার্ডের মানুষের চলাচলে ভোগান্তির শেষ থাকে না। এ দুটি ওয়ার্ডে পাকা নালা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই সমস্যা সমাধানের জন্য বাসন্ডা নদীর তীরবর্তী পশ্চিম ঝালকাঠি এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। তা না হলে আগামীতে এ দুই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এ দুই এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন দাবী আদায়ের জন্য পশ্চিম ঝালকাঠি বাঁচাও আন্দোলন পরিষদ নামে এ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে, আগামী ২৫ জুন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ, ২৭ জুন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় অবরোধ এবং ৬ জুলাই বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শামসুল ইকরাম পিরুসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। সংবাদ সম্মেলনের সময় দুই ওয়ার্ডের প্রায় দুই শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।