
মামলা হয়নিনাটোরে চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস থেকে নানা সরঞ্জাম ও অস্ত্র পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফুল হাবীবের নির্বাচনী লিফলেট, প্রচারপত্রও ছিল। কিন্তু মাইক্রোবাসটির ভেতর থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে কোনো মামলা হয়নি।
১৫ এপ্রিল বিকেলে প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন অনলাইনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের অনুলিপি নাটোর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে জমা দিতে যান। সেখান থেকে প্রতিমন্ত্রী ও তার শ্যালক লুৎফুল হাবীবের ঘনিষ্টরা দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণ করে শারীরিক নির্যান করে অচেতন অবস্থায় নিজ বাড়ির সামনে ফেলে যায়। ওই দিন দুপুরে আরো দুইজনকে অপহরণ করা হয়। পরে দেলোয়ারকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।
এঘটনায় দেলোয়ারের ভাই মুজিবর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। এরমধ্যে এক ব্যক্তির আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগ লুৎফুল হাবীবের ঘনিষ্ঠজনদের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে। গত শনিবার সন্ধ্যায় সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের দুর্গম চকপুর গ্রামের আতাউর রহমানের বাড়ি থেকে ওই মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়। অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আতাউর রহমানকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নাটোরের পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, মাইক্রোবাসটি একটি ঘরের মধ্যে লাকড়ি দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল। ওই বাড়িটি প্রতিমন্ত্রীর শ্যালক আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফুল হাবীবের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একজন ব্যবস্থাপকের। এ সময় মাইক্রোবাস থেকে লুৎফুল হাবীবের নির্বাচনী প্রচারপত্র, পোস্টার, লিফলেট পাওয়া গেছে জব্দ করা মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-৫৬-৫৩৯৫)।
এ সময় মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে গাড়ির মালিকানা (লুৎফুল হাবীবের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অর্ক ট্রেডার্স) ও চালকের লাইসেন্স, ২টি চায়না চাপাতি, ১টি চায়না টিপচাকু, ১টি বার্মিজ কাটার, ২টি রামদা, ২টি স্টিলের পাইপ, ২টি স্ট্যাম্প ও দেশে তৈরি ১টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ওই গাড়ির ভেতর থেকে লুৎফুল হাবীবের নির্বাচনী প্রচারপত্র, পোস্টার, লিফলেট ও ছবিযুক্ত ক্যালেন্ডারও উদ্ধার করা হয়।
ওই মাইক্রোবাস থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র নাটোর সদর থানায় দায়ের হওয়া মামলার আলামত হিসেবে জব্দ তালিকায় দেওয়া হয়েছে। এসব অস্ত্র বর্তমানে সদর থানায় সংরক্ষিত আছে। গত রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে সিংড়ার নেঙ্গুইন এলাকা থেকে আরো একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই মাইক্রোবাসটিও অপহরণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।
সিংড়া উপজেলা এলাকার মধ্যে অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় আইন অনুযায়ী ওই থানায় পৃথক মামলা হওয়ার কথা। সিংড়া থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে কোনো মামলা হয়নি।
সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম জানান, নিয়ম অনুযায়ী সদর থানার অপহরণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে সিংড়া থানায় এজাহার দেওয়ার কথা। কিন্তু তিনি এ ধরণের কোনো এজাহার পাননি। তাই নিজেরা বাদী হয়েও মামলা করেননি।
নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে দেশি অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো থানারু অপহরণ মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।