বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের জামাল মিয়া নামে এক ব্যক্তির হত্যার জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বাড়িতে কোন পুরুষ না থাকায় এ লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
গত (২২ এপ্রিল) শনিবার ঈদের দিন বিকালে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের নতুন বাজার এলাকায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। জামাল মিয়া খাগালিয়া গ্রামের খোরশেদ মিয়ার ছেলে। হত্যার একদিন পর ২৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই বাদি হয়ে ৫৭ জনকে আসামি করে নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এখন পর্যন্ত আসামি পক্ষের চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সরজমিনে খাগালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, আসামি পক্ষের বাড়ি-ঘরে কোথাও কোন পুরুষ নেই। বাড়িতে গিয়ে দেখা মিলে লুটপাটে চিত্র। ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুবেল মিয়াও স্বাীকার করেন ১৩টি লুটের গরু উদ্ধার করার কথা।
এ দিকে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর গতকাল রোববার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরাফেরা করলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তবে পুলিশ বলছে আামিরা কেউ এলাকায় নেই।
জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল বিকালে, খাগালিয়া নতুন বাজার এলাকায় সরকারি খাস জায়গা ধান মাড়াইকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এ সময় প্রতিপক্ষের টেঁটা বিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয় জামাল মিয়া।
হত্যাকান্ডের পরপরই লুটপাট নিহতের স্বজনরা। হামিদের পক্ষের লোকদের দাবি, তাদের অন্তত ৩০টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ৪০টি গরু, শতাধিক হাঁস, পাকা ধান, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। আসামি পক্ষের হাছেনা বেগমের দাবি, তার ঘরে ধানের গোলা থেকে একশ মণ ধান নিয়ে গেছে।
নাছির মিয়া ও গোলাম হোসেনের দাবি তাদের ঘর থেকে ১২টি গরু লুট হয়েছে। ঝর্ণা বেগমের অভিযোগ তার কানের স্বর্ণালংকার, ঘরে থাকা চারটি গরু, ১৫টি হাঁস রাতে নিয়ে গেছে। বাঁধা দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে।
নাসিরনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, সরকারি খাস জমিতে ধান মাড়াই করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জাড়ায়। সংঘর্ষে রব মিয়ার পক্ষের জামাল ঘটনাস্থলে টেঁটা বিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। হত্যার পর কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ।