নারীসহ সহদেব কুমার দাস নামের এক ব্যক্তিকে থানায় এনে আটকে রাখার পর রাতে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। ওই ব্যক্তি নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর গুরুদাসপুর-জোনাল অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত আছেন। এঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ হয়নি।
বুধবার গুরুদাসপুর পৌর শহরের কার্মকারপাড়া ব্রিজঘাট এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে দিনভর অবরুদ্ধ থাকার পর সন্ধ্যার দিকে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৪ মাস ধরে পল্লী বিদ্যুতের গুরুদাসপুর-জোনাল অফিসে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকুরি করছেন সহদেব কুমার দাস। তিনি গুরুদাসপুর পৌর শহরের ব্রিজঘাট এলাকার একটি বাড়িতে ব্যাচেলর হিসেবে ভাড়া থাকতেন। চার মাসে বেশ কয়েকবার ওই বাড়িতে সহদেবের সাথে এক নারীকে ঘনিষ্ট অবস্থায় দেখা গেছে।
সবশেষ বুধবার সকাল নয়টার দিকে সহদেবের কক্ষে ঢুকে পড়েন ওই নারী। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন সহদেব। একপর্যায়ে স্থানীয়রা নারীসহ সহদেব দাসকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এসময় গুরুদাসপুর-জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) বিষয়টি নিয়ে আপোষ রফার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পুলিশ এসে নারীসহ জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সহদেবকে থানা হেফাজতে নিয়ে রাত আটটা পর্যন্ত আটকে রাখে।

পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র জানিয়েছে, ওই নারীও নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর একটি অফিসে ডাটা এন্টি অপারেটর হিসেবে চাকুরি করছেন। বছরখানেক আগে চাকুরির সুবাদে বড়াইগ্রাম অফিসে সহদেবের সাথে ওই নারীর অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেসময় একাধিকবার ঘনিষ্ট অবস্থায় পাওয়ায় দুজনকে অন্যত্র বদলি করে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে গুরুদাসপুর থানা হেফাজতে নেওয়ার পর ওই নারী এবং সহদেব কুমার দাসের সাথে সাংবাদিকদের কথা বলতে দেয়নি পুলিশ। একারণে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপোষ-রফার বিষয়টি অস্বীকার করে গুরুদাসপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. মমিনুর রহমান বিশ্বাস বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। এর বেশি কিছু জানেন না।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. উজ্জল হোসেন জানান, খবর পেয়ে নারীসহ সহদেব নামের এক ব্যক্তিকে থানায় আনা হয়েছিল। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ না দেওয়ায় আটককৃত দুজনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।