কালকিনিতে রুটিপড়া খেয়ে অসুস্থ ব্যবসায়ী" ভন্ড কবিরাজ আটক- ছবি মুক্ত প্রভাত
মাদারীপুরের কালকিনিতে কথিত এক কবিরাজের রুটিপড়া খেয়ে জাহিদুল (৪৩) নামে এক ব্যবসায়ী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই ব্যবসায়ীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ জাহিদুলের স্বজনদের। এ ঘটনায় আজ সোমবার সকালে ওই ভন্ড কবিরাজ ইস্রাফিল শেখকে (৩৬) আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। আটক হওয়া ইস্রাফিল গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাক শেখের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৫ দিন আগে উপজেলার বাঁশগাড়ি এলাকার রামচন্দ্রপুর বাজারের ব্যবসায়ী দুলাল শিকদার ও মামুন শিকদারের দোকানে চুরি হয়। এই ঘটনায় পাশের দোকানদার জাহিদুলকে সন্দেহজনক ভাবে দায়ী করা হয়। এতে তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে ১০ টার দিকে রামচন্দ্রপুর বাজারের পাশে একটি মাদ্রাসা মাঠে রুটি পড়া খাওয়ার আয়োজন করা। এসময় উপস্থিত সন্দেহভাজন অর্ধশত মানুষকে কথিত কবিরাজের দেওয়া একটি করে রুটিপড়া খাওয়ান দোকানদার দুলাল ও মামুন। কিন্তু জাহিদুলকে এক সঙ্গে দুটি রুটি ও একটি ডিম খাওয়ানো হলে মুহুর্তের মধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এসময় স্থানীয়রা জাহিদুলকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে মাদারীপুর জেলা গোয়ান্দা পুলিশের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে কবিরাজ ইস্রাফিল শেখকে তার নিজ এলাকা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে আটক করেন। এসময় তার কাছ থেকে ডিম পড়া ও রুটি পড়া বাবদ গ্রহন ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
আহত জাহিদুলের বোন লিলি বেগম বলেন, তার ভাইয়ের সাথে বাজারের দোকানের জমি নিয়ে দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে রুটির সাথে অন্য কিছু মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। এতে করে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি নাজমুল হাসান জানান, এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার। কথিত কবিরাজের কাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কবিরাজকে ইতিমধ্যে গোয়ান্দা পুলিশ আটক করেছে। এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।