
—প্রতিকী ছবি
স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. সুমন (২৬) নামের এক তরুণকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় সুমনের সহযোগী রফিকুল ইসলামকে (৪৩) আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেন আদালত।
আজ রোববার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যােেলর বিচারক (দায়রা জজ) মো. আবদুর রহিম এই আদেশ দেন। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মো. সুমন নাটোরের লালপুর উপজেলার পোকন্দা গ্রামের এবং আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ জেলা তাড়াশ উপজেলা ধানকুন্টি গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষনার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন দুই আসামি। দণ্ডিত অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ওই ছাত্রীর পরিবার জানায়, নির্যাতনের ঘটনায় দেওয়া এই রায়ে তারা ন্যায় বিচার পেয়েছেন। এখন অপেক্ষা রায় বাস্তবায়নের। তারা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল সূত্রে জানাগেছে, অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে আদালতে দোষী সাব্যত্ব হন দুই আসামি মো. সুমন ও রফিকুল ইসলাম। রোববার মামলায় রায় দিয়েছেন আদালত। এরমধ্যে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. সুমনকে মৃত্যুদণ্ড এবং এই কাজে সহযোগীতা করায় রফিকুল ইসলামকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ডর সাথে অর্থদণ্ড করেন আদালত। আসামিদের পুলিশি পাহারায় নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
ট্রাইবুন্যালের সরকারি কৌঁসুলি আনিছুর রহমান বালেন, এক স্কুলছাত্রীকে প্রকাশ্যে অপহরণ করা হয়েছিল। অপহরণের পর বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণও করা হয় ওই ছাত্রীকে। সাক্ষ্য প্রমাণে দুই আসামী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। একারণে আদালত তাদের সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন। আদালতের দেওয়া এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
যে ঘটনায় দুই আসামির দণ্ড— মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানাগেছে, নিজের ঘরে টেবিলে বসে লেখা-পড়া করছিল দশম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্রী। এসময় আসামি মো. সুমন লোকজন সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে ওই ছাত্রীর বাড়ির সামনে আসেন। একপর্যায়ে ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার ধানকুন্টি গ্রামের রফিকুল ইসলামের বাড়িতে নিয়ে নির্যাতন করেন। এই ঘটনা ২০১৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার।
এঘটনায় ওই ছাত্রীর পিতা বাদি হয়ে লালপুর থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষায় করায়। এতে ধর্ষণ ও নির্যাতনের প্রমাণ মেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, ছয় আসামিকে অভিযুক্ত করে ২০১৬ সালের ১০ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। মো. সুমন ও রফিকুল ইসলাম ব্যতিত অন্য আসামিদের অব্যহতি দেন আদালত। এই মামলায় মোট ১১ জনের সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।