ভোলা হাসপাতাল: আইসিইউর দাবিতে অবস্থান
জাতীয় ডেস্ক: দ্বীপ জেলা ভোলার সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনের প্রবেশপথে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এক যুবক। সম্প্রতি দুপুরবেলা হাসপাতালের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁকে একা বসে থাকতে দেখা যায় এবং তাঁর এই দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আরও কয়েকজন তরুণ পাশে এসে সমবেত হন। নয়ন খান নামের ওই যুবকের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ভোলা জেনারেল হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ও সিসিইউ অবিলম্বে চালুর জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। মূলত ভোলার প্রান্তিক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জীবন রক্ষার জন্য এই চিকিৎসা সুবিধা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে আন্দোলনকারীরা মনে করছেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবাকে হারানোর বেদনা থেকেই নয়ন খান মূলত এই একাকী আন্দোলনের সূচনা করেন এবং পরবর্তীতে এটি জনসচেতনতামূলক রূপ নেয়। গত অক্টোবরের শেষ দিকে অসুস্থ বাবাকে এই হাসপাতালে নিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় আইসিইউ সুবিধার অভাবে তাঁকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন এই যুবক। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই তিনি হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে এই প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালটিতে পূর্ণাঙ্গ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ও সিসিইউ ইউনিট চালু না হওয়া পর্যন্ত তাঁর এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে নয়নের এই আকস্মিক ও একা আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভোলার বিভিন্ন এলাকার সচেতন তরুণেরাও তাঁর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রাস্তায় নেমে আসেন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা এক যুবক থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সার ও কলেজের শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত নয়নের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাঁর পাশে এসে অবস্থান নেন। তাঁদের মতে, এটি কেবল কোনো একক ব্যক্তির ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি সমগ্র ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। তাই তো সামাজিক মাধ্যমের জোরালো বার্তা দেখে অনেকে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসে এই ন্যায়সংগত দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও এই দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সুজন ভোলা জেলা শাখার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভোলা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা স্থাপন করা হলেও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত জনবল সংকটের অজুহাতে তা পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, আইসিইউ সেবা চালু না থাকায় বর্তমানে ডেঙ্গু, হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের মতো জটিল রোগীদের বাধ্য হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল কিংবা ঢাকা পাঠাতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং অনেক সময় পথেই রোগীদের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে।