সনদ অর্জনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে গবেষণায় মনোযোগ দিতে হবে: জবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতীয় ডেস্ক: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সনদ সর্বস্ব মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল চাকরি পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং এগুলোকে মুক্তচিন্তা ও গবেষণার আসল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জ্ঞানভিত্তিক জনশক্তি তৈরির কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী বর্তমানে শিক্ষিত বেকারত্বের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। শুধু প্রথাগত সনদ অর্জনের মাধ্যমে একটি জাতির সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তাই শিক্ষার গুণগত মানে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর পাস করা সব শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার পেছনে না ছুটে কারিগরি ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষায় মনোনিবেশ করার তাগিদ দেন তিনি।
বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো আধুনিক প্রযুক্তিগুলো ভবিষ্যৎ বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এসব সমসাময়িক প্রযুক্তি নিয়ে কতটা গবেষণা ও জ্ঞানচর্চা করছে, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে দেশের জনশক্তিকে আরও বেশি প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রামের পর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে। কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটসহ অন্যান্য দাবিগুলোর বিষয়ে সরকার ইতিবাচক রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তবে যৌক্তিক দাবির পক্ষে কথা বললেও অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি।
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপরেখা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে জাতির জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্র যত বেশি বিস্তৃত, সে জাতির অগ্রগতির সম্ভাবনাও তত বেশি প্রখর। আগামী একশ বছরের লক্ষ্য সামনে রেখে তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে এবং দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে।