খরচের চাপে ৮১% কর্মীর অবসরকালীন আর্থিক পরিকল্পনা নেই
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের বেসরকারি খাতের বিপুলসংখ্যক কর্মী বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক অনিশ্চয়তা ও খরচের চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটানোর তাগিদে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগ কমে গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের বেসরকারি খাতের প্রায় ৮১ শতাংশ কর্মীরই কোনো নির্দিষ্ট অবসরকালীন আর্থিক পরিকল্পনা নেই। মূলত তাৎক্ষণিক ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে কর্মীরা ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের বিষয়টি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।
বহুজাতিক বিমা প্রতিষ্ঠান মেটলাইফ বাংলাদেশের করা এই সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদনটি রাজধানীর মতিঝিলে মেটলাইফ বাংলাদেশের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। চলতি বছর আগস্ট মাসে পরিচালিত এই জরিপে দেশের বিভিন্ন খাতের ৭০৯ জন অংশ নেন, যার মধ্যে পূর্ণকালীন কর্মী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তৈরি পোশাক, ব্যাংক, টেলিকম, এনজিও এবং খুচরা বিক্রেতাসহ নানা খাতের কর্মীদের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই চিত্র উঠে এসেছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারী অর্ধেকের বেশি কর্মী জানিয়েছেন যে অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ ও দৈনন্দিন ব্যয়ের কারণে তাঁদের কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় ৭২ শতাংশ কর্মী স্বীকার করেছেন যে এই ধরনের আর্থিক চাপ তাঁদের কাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এর ফলে ভবিষ্যৎ সঞ্চয় করার প্রবণতাও হ্রাস পাচ্ছে। এর আগের বছর এই হার তুলনামূলক কম থাকায় এটি স্পষ্ট যে বর্তমান সময়ে কর্মীরা অনেক বেশি আর্থিক চাপের মুখে রয়েছেন।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের কর্মীরা তাঁদের নিয়োগকর্তাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রায় ৮১ শতাংশ কর্মী মনে করেন তাঁদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এবং ৮৬ শতাংশ কর্মী চান প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁদের অবসরকালীন সঞ্চয়ে সরাসরি সহায়তা করুক। পাশাপাশি, কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমাতে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমান কর্মপরিবেশে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।