কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের কথা কেন বলে বিএনপি, জানালেন রিজভী
রাজনীতি ডেস্ক: কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কথিত রাজনৈতিক আঁতাত নিয়ে কেন বিএনপি বারবার প্রশ্ন তুলছে, সম্প্রতি তার নেপথ্য কারণ ও যুক্তি ব্যাখ্যা করেছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। দলের এই অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানানো হয় যে গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বিভাজিত করার যেকোনো অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকেই পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে। মূলত রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান নানা সমীকরণ এবং সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের পর এই ব্যাখ্যা সামনে আসে।
গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয় যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই জামায়াত শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সাবেক শাসক দলকে ক্ষমা করে দেওয়ার মতো সুর শোনা গিয়েছিল। এই ধরনের নমনীয় মনোভাব এবং তাদের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান দেশের সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ, তখন এমন অবস্থান গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলের মতে, একটি রাজনৈতিক দল যখন ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান না নিয়ে উল্টো বিভাজনের রাজনীতি করে, তখন তা প্রকারান্তরে পলাতক শক্তিকে পুনর্বাসিত হওয়ার পথ সুগম করে। দেশের পুরো জাতি যখন দীর্ঘ দুঃশাসনের শিকার হয়েছিল, তখন সেই শক্তির বিষয়ে যেকোনো ধরনের আপসকামী মনোভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জেরে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে কথার লড়াই ও পাল্টাপাল্টি মন্তব্য লক্ষ্য করা গেছে।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বিএনপি নেতা আরও জানান যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা চালাচ্ছে পলাতক চক্র। এমন একটি জটিল পরিস্থিতিতে কোনো রাজনৈতিক দল যদি মূল ধারা থেকে সরে গিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে, তবে তাদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠা অত্যন্ত স্বাভাবিক। সাম্প্রতিক এক জনসভায় দলের শীর্ষ পর্যায় থেকেও এই বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।