‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ জামায়াতের ৫ নেতাকে ফাঁসি দিয়েছে, বিএনপির অফিস তো বন্ধ করেনি’
রাজনীতি ডেস্ক: ক্ষমতাচ্যুত দলের সঙ্গে সমঝোতা বা আঁতাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ অবান্তর এবং রাজনৈতিক অসততা হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। মূলত গত দেড় দশকে রাজনৈতিক ময়দানে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি এই বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, যে দলটির চরম দমনপীড়নের শিকার হয়েছে জামায়াত, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের গোপন সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।
হামিদুর রহমান আযাদ তাঁর বক্তব্যে বিগত সরকারের আমলের দলীয় ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে জানান যে, তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতাকে ফাঁসি দিয়েছে। পাশাপাশি দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সিলগালা করে রাখা হয়েছিল। এই চরম বৈরী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন যে, এতকিছুর পরও কীভাবে একটি সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ জামায়াতের সঙ্গে ওই দলের আঁতাতের কল্পকাহিনি বিশ্বাস করতে পারে।
অন্যদিকে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে এই জামায়াত নেতা পাল্টা অভিযোগ করেন যে, বিগত সময়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি তুলনামূলক সুগম পরিবেশে রাজনীতি করেছে। তিনি দাবি করেন যে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় কখনো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়নি এবং তারা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সভা-সমাবেশ পরিচালনা করতে পেরেছে। উল্টো গত পনেরো বছর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে তারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি দেশের একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা কিছু মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এই আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। রাজশাহীর একটি জনসভায় এবং পরবর্তী সময়ে দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের বক্তব্যে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলা হয়। এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে আখ্যায়িত করে জামায়াত নেতারা বলছেন, মূলত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট এবং সাংবিধানিক সংস্কারের মতো জরুরি ও মৌলিক জাতীয় দাবিগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরাতেই এই অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে।