—ছবি মুক্ত প্রভাত
নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল (৩২) হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় যুবদলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত ওই বহিষ্কারাদেশে বলা হয়- ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সহযোদ্ধার জীবনহানির মতো গর্হিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
বহিষ্কৃতদের কোন ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নিবেনা। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এরআগে ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম। এ সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি মারা যান। ঘটনা ১৯ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন নিহত রবিউল ইসলাম। সেই মামলাতে সোমবার রাত দশটার দিকে গুরুদাসপুর বাজারের ভাড়া বাসা থেকে এমপি আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে আটক করে থানা পুলিশ। পরদিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত আসামীর ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিন বেলা তিনটার দিকে রাজধানীর পল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে শাকিলের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাতেই লাশটি শাকিলের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে শাকিলের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় নেতা কর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত হন। জানাজা শেষে রাত ১১টার দিকে আগত মুসল্লিদের একাংশ মিছিল নিয়ে চাঁচকৈড় বাজারে যান। সেখানে আমেরিকা প্রবাসী রাসেলের 'রাস আরবান স্টাইল' নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীদের দোকানের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
নিহত শাকিল পৌরসভার খামারনাচকৈড় খোয়ারপাড়া মহল্লার রবিউল মিস্ত্রির ছেলে।
শাকিলের পিতা রবিউল মিস্ত্রি বলেন, ১৪ অক্টোবর তার ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর যখম করে দুর্বৃত্তরা। ১৯ অক্টোবর তিনি গুরুদাসপুর থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। সেসময় এমপির নির্দেশেই আমেরিকা প্রবাসীর রাসেলের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। আবার এমপির নির্দেশেই রাসেলের নামটি কেটে দেওয়া হয়। এমপির ছেলে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা ছাড়া এই ঘটনায় পুলিশ অন্য কোন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তার ধারণা মিন্টুর সঙ্গে আমেরিকা প্রবাসী রাসেলও তার ছেলের হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত।
এদিকে জানাজায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, জানাজা শুরুর আগে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ শাকিলের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বক্তব্য রাখছিলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি নিহত শাকিলের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় জানাজায় উপস্থিত লোকজন ভুয়া ভুয়া স্লোগান শুরু করেন। তাৎক্ষণিক উপস্থিত মুসল্লিদের রসানলে পড়েন এমপি আব্দুল আজিজ।
শাকিলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ বলেন, অপ্রত্যাশিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সন্তান জড়িত থাকলেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় কেউ মামলা দায়ের করেন নি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।